পচা চাল সংগ্রহ করায় সরকারি খাদ্যগুদাম সিলগালা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২
সিলগালা করা হয় খাদ্যগুদাম, ইনসেটে পচা চাল

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পচা চাল সংগ্রহ করার অভিযোগে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সরকারি খাদ্য গুদাম সিলগালা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় খাওয়ার অনুপযোগী ১৯ টন চাল জব্দ করা হয়।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিজিডিসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের ৩০০ টন চাল কুড়িগ্রাম খাদ্য গুদাম থেকে রৌমারী গোডাউনে ঢোকার কথা। সেই মোতাবেক ১৫৪ টন চাল কুড়িগ্রাম খাদ্য গুদাম থেকে পাঠানো হয়। সেই চাল না ঢুকিয়ে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পচা চাল গোডাউনে ঢুকানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল ইমরান সেই সত্যতা পান।

রৌমারী খাদ্য গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোর্শেদ আলম বলেন, কুড়িগ্রাম খাদ্য গুদাম থেকে ১৫৪ টন চাল পাঠিয়েছে। ১০০ টন এখনো নৌকায় আছে। ৫৪ টন ট্রাক্টরে আসতে দেরি হওয়ার কারণে রাতে চাল ঢোকানো হচ্ছিল। এ সময় তিনি কুড়িগ্রাম খাদ্য গুদামের ৫৪ টনের চালানপত্র দেখান।

jagonews24

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান বলেন, রৌমারী খাদ্য গোডাউনে পচা চাল ঢোকানো হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় গোডাউনে ঢোকানো অবস্থায় ট্রাক্টরে ৭৭ বস্তা ও গোডাউনের ভেতরের ১৯ টন পচা চালসহ ১ নম্বর গুদাম সিলগালা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জেলা খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন রৌমারী উপজেলার জন্য ভিজিডিসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য ৩০০ টন চাল কুড়িগ্রাম খাদ্য গুদাম থেকে রৌমারীতে যাবে। এরই মধ্যে ১৫৪ টন চাল কুড়িগ্রাম খাদ্য গুদাম থেকে ছাড় করা হয়েছে। ৫৪ টন রৌমারী খাদ্য গোডাউনে চলে গেছে। ১০০ টন চাল নৌকায় করে যাচ্ছে নদীতে আছে। পচা চালের বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম থেকে পাঠানো চালের নমুনাসহ তদন্তের জন্য পাঠাচ্ছি। সেটা দেখার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আল ইমরান বলেন, বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম থেকে চালের নমুনাসহ খাদ্য পরিদর্শক পারভেজ হোসেন, সদর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ও রৌমারী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলাউদ্দিন বসুনিয়াসহ তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম এসে তদন্ত শুরু করে। এ সময় তারা নমুনা চালের সঙ্গে সিলগালা চালের কোনো মিল খুঁজে পায়নি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম খাদ্য পরিদর্শক পারভেজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, নমুনা চালের সঙ্গে সিলগালা করা পচা চালের কোনো মিল নেই। এখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। যিনি এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।

মাসুদ রানা/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]