নির্মাণের ৩০ বছরেও চালু হয়নি রাজবাড়ীর বাস টার্মিনাল
প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯৯৩ সালে নির্মিত হয় রাজবাড়ীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। তবে নির্মাণের প্রায় ৩০ বছর হতে চললেও আজও চালু হয়নি টার্মিনালটি। ফলে জেলা শহরের বড়পুল ও নতুনবাজার মুরগির ফার্ম এখন অলিখিত বাস টার্মিনালে পরিণত হয়েছে। যাত্রীরা তাদের সুবিধার্থে ওই দুই স্থান থেকে বাসে ওঠানামা করছেন।
রাজবাড়ীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের শ্রীপুরে অবস্থিত। সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম না থাকায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে টার্মিনাল। সেখানে যাত্রীদের কোনো আনাগোনা নেই। টার্মিনালের মূল ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন মেরামতের কাজ। যত্রতত্র পড়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা।
টার্মিনালের মূল ভবনের একপাশে যাত্রীদের বসার স্থান থাকলেও চেয়ারগুলো ভেঙে যাওয়ায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ব্যবহৃত হয় না ভবনের কোনো রুম। ফলে নষ্ট হচ্ছে রুমের জানালা-দরজা। দু-একটি রুম ব্যবহৃত হলেও সেগুলোতে যানবাহন মেরামতের যন্ত্রপাতি রাখা হয়েছে। টয়লেট থাকলেও পানি নেই। টার্মিলটির সামনের অংশে রাখা হয়েছে ইলেকট্রিক পোল। অস্থায়ী চায়ের দোকানও বসেছে সেখানে।

টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানে গড়ে ওঠা খাবার হোটেলসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো রয়ে গেছে সেগুলোর ব্যবসার গতি নেই। তবে জমজমাটভাবে চলছে যানবাহন মেরামতের গ্যারেজগুলো।
হাসেম ব্যাপারী, মিঠুন মিয়াসহ কয়েকজন যাত্রী জানান, রাজবাড়ী বাস টার্মিনালে গাড়ি পার্কিং হয়। কিন্তু এখান থেকে যাত্রী ওঠানো বা নামানো হয় না। শহরের ভেতর বড়পুল ও মুরগি ফার্মে সব ধরনের গাড়ি পাওয়া যায়। যে কারণে যাত্রীরা টার্মিনালে যান না।

বাস টার্মিনালটি চালুর দাবি জানান রাজবাড়ী পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হাসান মৃধা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এখনো টার্মিনালে বাস আসা-যাওয়া করে এবং স্টপেজ দেয়। তবে বাস টার্মিনালটি শহরের একপাশে হওয়ায় সেখানে যাত্রী কম যায়।
তিনি বলেন, ‘শহরকে বাইপাস করে যদি বিকল্প কোনো সড়কের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে টার্মিনালটি পরিপূর্ণ মনে হবে। মনে হবে টার্মিনালটি চালু আছে।’

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর পৌরমেয়র আলমগীর শেখ তিতু জাগো নিউজকে বলেন, টার্মিনালে অন্য কোনো সমস্যা নেই, শুধু গাড়ি যায় না। টার্মিনালের কার্যক্রম চালু করতে বাস মালিক গ্রুপ, শ্রমিক ও পরিবহন সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

তবে টার্মিনালটি চালু রাখতে যাত্রীদের আগে সচেতন হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন মেয়র। সেই সঙ্গে টার্মিনাল থেকে যাত্রীদের ওঠানামাসহ সব ধরনের কার্যক্রম চালু করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
রুবেলুর রহমান/এসআর/এএসএম