ময়মনসিংহে প্রতি টনে রডের দাম বেড়েছে ৩ হাজার টাকা
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাবে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ময়মনসিংহের রডের বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে রডের দাম টনপ্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ মহানগরীর বড় বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।
ওই বাজারের মেসার্স জনতা ট্রেডিংয়ের বিক্রেতা সাদ্দাম বলেন, চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানিগুলো রড দিতে পারছে না। আগে রডের অর্ডার করলে কোম্পানিগুলো পরদিনই সাপ্লাই দিতো। এখন এক সপ্তাহেও রড সাপ্লাই দিতে পারে না। তাছাড়া জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। দোকানের শ্রমিক খরচ এবং পরিবহন খবচও বেড়েছে। তাই রডের দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, গড়ে সব ধরনের রডের দাম টনপ্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা বেড়েছে। একেএস ৮৯ হাজার থেকে বেড়ে ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা, বিএসআরএম ৯০ হাজার থেকে বেড়ে ৯৪ হাজার ৫০০, পিএইচপি ৮৭ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ৯০ হাজার, এসএসআরএম ৮৬ হাজার থেকে বেড়ে ৮৯ হাজার টাকা টন বিক্রি হচ্ছে।
একই বাজারের হাজি মোসলেম উদ্দিন অ্যান্ড কোংয়ের বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই কোম্পানিগুলোই রডের দাম বাড়াচ্ছে। এখানে আমাদের মতো ছোটখাটো ব্যবসায়ীর হাত নেই। তিনি বলেন, আমার শুধু বিএসআরএম রড বিক্রি করি। বর্তমানে এই রড ৯৫ হাজার টাকা টন বিক্রি হচ্ছে।

জামান অ্যান্ড কোংয়ের বিক্রেতা খোকন মিয়া বলেন, কী কারণে দাম বেড়েছে, তা রড উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো বলতে পারবে। আমার জানা নেই। আমি কেএসআরএম ৯২ হাজার টাকা টন বিক্রি করছি।
ওই বাজারের নওশান ট্রেডার্সের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত রড উৎপাদন করতে পারছে না। যে কারণে রডের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। তাই রডের দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, একেএস ৯৩ হাজার ৫০০, বিএসআরএম ৯৪ হাজার ৫০০, পিএইচপি ৯০ হাজার, এএসআরএম ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা টন বিক্রি হচ্ছে।
ইসলাম ট্রেডার্স মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত রড কোম্পানিগুলো সাপ্লাই দিতে পারছে না। চাহিদা পূরণ না হওয়ায় রডের দাম বেড়েছে। তাছাড়া জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ সংকট রডের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
তিনি আরও বলেন, এখন থেকে ১০ দিন আগেও চট্টগ্রাম থেকে এক ট্রাক রড আনতে খরচ হতো ১৮ হাজার। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার। এছাড়া ঢাকা থেকে রড আনতেও ট্রাকপ্রতি চার-পাঁচ হাজার টাকা বেড়েছে।
মঞ্জুরুল ইসলাম/এমআরআর/এএসএম