রাজবাড়ীতে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থআত্মসাতের অভিযোগ
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রতনদিয়া সিবিজি মৎস্য সমবায় সমিতির প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রোববার (৬ নভেম্বর) দুপুরে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সমিতির সভাপতি ইতি খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে তারা বলেন, কালুখালী উপজেলার সর্ববৃহৎ মৎস্য সমিতি রতনদিয়া সিবিজি (মৎস্য) সমবায় সমিতি। এ সমিতির অনুকূলে বরাদ্দ দুই লাখ টাকার মধ্যে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক মাছের পোনা, খাবারসহ মোট ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকার উপকরণ দেন। বাকি টাকার মালামালের জন্য কয়েকবার বলা হলেও দিচ্ছেন না। গত ২৯ জুলাই জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের দিন মালামালের বিষয়ে হিসাব চাওয়া হলে মৎস্য কর্মকর্তা বাজে আচরণ করেন এবং পরে দেখা করতে বলেন। কিন্তু পরে তিনবার দেখা করলেও টাকা না দিয়ে উল্টো হুমকি দেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালুখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ওই সমিতির অন্য সদস্যরা সমিতির মাছ বিক্রির টাকার হিসাব চেয়ে আমার কাছে অভিযোগ করেন। পরে আমি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে হিসাব চাওয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রতনদিয়া সিবিজি (মৎস্য) সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান জানান, তাদের সমিতির সদস্য ২০ জন। উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে তাদের সমিতিতে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ টাকা না দিয়ে এখন উল্টোপাল্টা কথা বলছেন মৎস্য কর্মকর্তা।
তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ৪৭ হাজার টাকার মাছের পোনা, ৩২ বস্তা খাবার ও দুই বস্তা খৈলসহ কিছু ইউরিয়া সার পেয়েছেন। যা হিসাব করলে ৯৩ হাজার টাকা হবে। বাকি এক লাখ সাত হাজারের মধ্যে ভ্যাট ও অডিটের জন্য কিছু টাকা কেটে রাখা হবে। কিন্তু ওই টাকার কোনো হিসাব দেননি মৎস্য কর্মকর্তা। বেশ কিছুদিন আগে তারা যে টাকা পেয়েছেন সে টাকার হিসাব অফিসে দিয়ে আসলেও পরবর্তীতে অফিস থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
মাসুদ খান আরও দাবি করেন, তারা প্রায় আড়াই লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা উল্টোপাল্টা কথা বলে তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করায় তারা মৎস্য অফিসারের কাছে যাননি। সমিতির সদস্যদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ বা সমস্যা নেই। মূলত মৎস্য কর্মকর্তা তাদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যে কারণে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করা হলেই বোঝা যাবে কারা মিথ্যা বলছে।
এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. সজিব অভিযোগপ্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রুবেলুর রহমান/এমআরআর/জিকেএস