ব্রহ্মপুত্র খননে ধীরগতি: হাঁটুপানিতে নেমে নাগরিক আহাজারী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০৯:১৩ পিএম, ০৯ জুন ২০২৩

ময়মনসিংহে হাঁটুপানিতে নেমে ‘প্রহসনের’ ব্রহ্মপুত্র নদ খননের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। শুক্রবার (৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর কাচারীঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের হাঁটুজলে দাঁড়িয়ে নাগরিক আহাজারী নামে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা নাগরিক আন্দোলন।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে ব্রহ্মপুত্র নদ খননের নামে প্রহসন চলছে অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদ জানানো হয়।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন কালাম বলেন, দখল, দূষণ আর পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফিরিয়ে আনতে ২০১৯ সালের শেষের দিকে শুরু হয় খনন কাজ। প্রায় দুই হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নদের ২২৭ কিলোমিটার খনন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। খননের পর যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থল জামালপুরের কুলকান্দি থেকে কিশোরগঞ্জের টোক পর্যন্ত নদটি ৩০০ ফুট প্রশস্ত ও শুষ্ক মৌসুমে ১০ ফুট গভীর থাকবে এমনটি ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত কোনো খনন হয়নি। যে নদ দিয়ে এই সময়ে লঞ্চ-স্টিমার চলার কথা সেই নদ মানুষ হেঁটে পার হচ্ছে। আমরা কখনো এমনটি চাইনি। নাগরিক সমাজ মনে করে এখানে নদ খননের নামে অর্থ লুটপাট হয়েছে। তাই নদের নাব্য ফিরে না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান বলেন, বিভাগ গঠনের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় আমরা হতাশ। ব্রহ্মপুত্র নদ খননসহ আমাদের সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দাবি রয়েছে তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আগামী ১৭ জুন রেলওয়ে কৃষ্ণ চত্বরে ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটে দুইজোড়া ট্রেন চালুর দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হবে।

ব্রহ্মপুত্র নদ খননের প্রধান প্রকল্প সমন্বয়কারী প্রকৌশলী খন্দকার রাকিবুল ইসলাম বলেন, জুলাই মাসে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা পর্যন্ত জাহাজ চলবে। উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রীর সিডিউল চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের টাকা ছাড় না হওয়ায় খনন কাজ চলছে ধীর গতিতে। ঊর্ধ্বমুখে কাজই শুরু করা যায়নি।

মঞ্জুরুল ইসলাম/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।