লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ঢাকা ফিরছে দক্ষিণের মানুষ

শাওন খান
শাওন খান শাওন খান , জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:৫৫ পিএম, ০৭ জুলাই ২০২৩

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ঢাকা ফিরছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির পর অনেকেই গত সপ্তাহ থেকে কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধ শুরু করেছেন। তবে শুক্রবার (৭ জুলাই) দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আসা যাত্রীতে কানায় কানায় ভর্তি হয়ে গেছে ঢাকাগামী লঞ্চগুলো।

সন্ধ্যায় বরিশাল নদী বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল থেকেই প্রতিটি লঞ্চে ঢাকামুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড়। গত সপ্তাহ থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুললেও অনেকে ছুটি বাড়িয়ে নিয়েছেন, শুক্রবার ছুটি কাটিয়ে শনিবার থেকে অফিস করার জন্য। আবার কেউ কেউ শনিবার পর্যন্ত ছুটি কাটিয়ে রোববার থেকে অফিস করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আর পড়ুন: ২০ কিমি সড়কে ১০ ঘণ্টা ধরে যানজট, যাত্রী ভোগান্তি চরমে

বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক কবির হোসেন জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বরিশাল নদী বন্দর থেকে সরাসরি ১০টি ও ভায়া দুটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

নদী বন্দর ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি লঞ্চেই ধারণ ক্ষমতার দুই থেকে তিনগুণ যাত্রী উঠিয়েছে। যাত্রীরা বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রী হয়েই কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। তবে যাত্রীর এ চাপ শনিবারও কিছুটা থাকবে বলে জানান লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা।

সুন্দরবন -১৬ লঞ্চের কেবিনের যাত্রী মামুন জাগো নিউজকে বলেন, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর ভিড় বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন যে কেবিনের দরজা পর্যন্ত খোলা সম্ভব হচ্ছে না। পুরো লঞ্চের মধ্যে পা ফেলার মতো জায়গা নেই। এমনকি লঞ্চের নামাজের স্থানটুকুও যাত্রীতে পরিপূর্ণ।

শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশ্যে ওঠা শুভরাজ লঞ্চের যাত্রী মনির হাওলাদার বলেন, পরিবার ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। তবুও যেতে হবে, শনিবার থেকে অফিস শুরু হবে। সেজন্য আজকে রওয়ানা দিলাম।

অপর যাত্রী শারমিন বলেন, আসার সময় সারা রাত লঞ্চে একইভাবে কষ্ট করে এসেছি, এখন আবার কষ্ট করেই ফিরতে হচ্ছে। বিকেল ৫টা থেকে নদী বন্দরে পুলিশ ও কিছু লোকজনকে হাতে মাইক নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী না ওঠা ও নির্ধারিত যাত্রী নিয়ে সময়মত লঞ্চ ছাড়ার জন্য মাইকিং করতে দেখছি। অথচ কে শোনে কার কথা। টিকিটের গায়ে ৫টায় লঞ্চ ছাড়ার কথা থাকলেও কোনো লঞ্চ নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে দেখিনি।

যাত্রীদের অভিযোগ, বিকেল ৫টায় লঞ্চগুলো ছাড়ার কথা থাকলেও রাত ৯ টার আগে ছাড়েনি। এ অবস্থায় সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

এদিকে, নদী বন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও রয়েছে। এছাড়া লঞ্চে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করতে না পারে সেটি তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কাজ করছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক কবির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি যাতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো লঞ্চ না ছাড়ে। এছাড়াও আমাদের সার্বিক সহায়তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রয়েছে।

 এএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।