বগুড়ার ১৭১টি ভোট কেন্দ্রের ১৪১টিই ঝুঁকিপূর্ণ


প্রকাশিত: ১০:৫২ এএম, ২৮ মার্চ ২০১৬

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয়  ধাপে বগুড়ার দুইটি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুইটি উপজেলায় ১৭১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৪১টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে শিবগঞ্জ উপজেলার ১২টি এবং সোনাতলা উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার থেকেই নির্বাচনী সরঞ্জাম জেলা কার্যালয় থেকে উপজেলায় পাঠানো শুরু হয়েছে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ মার্চ মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই শিবগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে হামলা-মারপিট অফিস ভাঙচুর হত্যাসহ একাধিক ঘটনায় ঘটেছে। এজন্য প্রশাসন এই উপজেলায় বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে।

বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কামরুল মোর্শেদ আপেল জানান, পিবর ইউনিয়নে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা সফিকুল ইসলাম সফিক নির্বাচন করছেন। কিন্তু তার এলাকার চারটি ভোটকেন্দ্র মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি এ চারটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হোসেন জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১১৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৯১টি কেন্দ্রই ঝুঁকির্পর্ণ হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছে। এজন্য প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।    

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোনো রকমের গোলযোগ যাতে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে। উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫৭ সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৪৬ এবং সাধারণ সদস্য পদে ৪৪৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে, সোনাতলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মোত্তালেব জানান, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২৯ সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৮২ এবং সাধারণ সদস্য পদে ২২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পুলিশ জানায়, ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিজিবি ও র্যাব টহলের পাশাপাশি ১২০০ পুলিশ ও ২৭০০ আনসার বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা। অতি ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রের ভিতরে সশস্ত্র পাঁচজন পুলিশ এবং কেন্দ্রের বাহিরে সশস্ত্র সাতজন পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও ১৬ জন আনসার বাহিনীর সদস্য থাকবে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোনো রকমের গোলযোগ যাতে না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ নয়, পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে কেন্দ্র চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।