দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি থেকে চিরবিদায়!


প্রকাশিত: ০৯:০৭ এএম, ০২ এপ্রিল ২০১৬

নির্বাচন পরবর্তী জয়ী প্রার্থী যেমন বিজয় উল্লাস করে প্রতিক্রিয়া দেখান তেমনি পরাজিত প্রার্থীরাও দেখান নানান ধরণের প্রতিক্রিয়া। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, উল্লাস আর জয়-পরাজয়ের নানা হিসাব নিকাশের চুলচেরা বিশ্লেষণের ঘটনার মধ্যে দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করলেও দুধ দিয়ে গোলস করে প্রবিত্র হয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রহিজ উদ্দীন আকন্দ।

সদ্য অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে মাত্র ১৪৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত নরুল ইসলামের কাছে। আর এতে অনেকটা ক্ষোভ আর দুঃখে দুধ গোসলের মাধ্যমে রাজনীতি থেকে চিরবিদায় ও ভবিষ্যতে নির্বাচন না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সদ্য বহিষ্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রহিজ উদ্দিন আকন্দ।

রহিজ উদ্দীন আকন্দ বলেন, বিগত ৫ বছর ওই অলোয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। দায়িত্ব পালনকালে দুই দুইবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। গত নির্বাচনেও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাই কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে দেয় ঠিকাদার নুরুল ইসলামকে।

ইউনিয়নবাসী ও দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের চাপে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোটরসাইকেল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়। মাত্র ১৪৯ ভোটের ব্যবধানে আমাকে পরাজিত করা হয়েছে। তিনি পেয়েছেন ৫০৩৯ ভোট আর আমাকে দেখানো হয়েছে ৪৮৯০ ভোট। ভোটের ব্যবধান অনেক বেশি হলে মানতাম আমি অযোগ্য। কিন্তু সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজয় মেনে নিতে পারছিনা। আমাকে পরাজিত করানো হয়েছে। তাই আমি ক্ষোভে দুধ গোসলের মাধ্যমে রাজনীতি থেকে চিরবিদায় ও ভবিষ্যতে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের জন্য অনেক শ্রম দিয়েছি। তারপরও দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। কিন্তু তাতেও আমার কোনো দুঃখ নেই। জনগন আমাকে ব্যাপক ভোট দিয়েছে। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমার ফলাফল পাল্টে দিয়ে ১৪৯ ভোটের ব্যবধানে অন্যজনকে ঘোষণা করা হয়েছে। যে দলের জন্য এতো শ্রম দিয়েছি সেই দল থেকে কি পেলাম? সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর রাজনীতি করবোনা। তাই দুধ দিয়ে গোসল করে পবিত্র হলাম।

ভূঞাপুর উপজেলার সর্বত্রই আলোচনা রহিজ উদ্দীনের দুধ গোসল করে প্রবিত্র হওয়ার ঘটনা নিয়ে। উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতারা  মনে করছেন এটি একটি সাময়িক  ক্ষোভের বহিপ্রকাশ মাত্র। রহিজ উদ্দীনের অনুসারীরা বলছেন তিনি এক কথার মানুষ। আর সাধারণ মানুষ মনে করছেন, রাজনীতির শেষ বলে কিছু নেই।

এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।