সোনাতলায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ২০


প্রকাশিত: ১০:৫০ এএম, ০২ এপ্রিল ২০১৬

বগুড়ার সোনাতলায় নির্বাচনী সহিংসতায় দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংর্ঘষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি ২৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে। পরে রক্তাক্ত সহিংসতা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনে পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামে শনিবার দুপুরে এই সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পাঠানপাড়া গ্রামে ব্যাপারী পরিবারের সঙ্গে মিয়া পরিবারের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে একই গ্রামের ব্যাপারী পরিবারের প্রার্থী সেলিম পরাজিত হন এবং মিয়া পরিবার থেকে আব্দুস সামাদ বিজয়ী হন। এরপর শনিবার দুপুরের দিকে বিজয়ী মেম্বার আব্দুস সামাদের কর্মী সর্থকরা গ্রামের একটি সরকারি খাস পুকুর দখলে নিতে গেলে পরাজিত প্রার্থী সেলিমের লোকজন বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের লোকজন সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। তিনঘণ্টা ব্যাপী সংর্ঘষে উভয়পক্ষের লোকজন লাঠিশোটা ও বল্লম ছাড়াও দেশীয় বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে মিজান, সাহেব আলী, মিঠু, ঠান্ডা মিয়া, রশিদ, মমিুনুল, মানিক ও জয়নাল আবেদীন সোনাতলা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে জয়নাল আবেদীনের অবস্থার অবনতি হওয়ায তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে সংর্ঘষ থামাতে সোনাতলা থানা পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ শুরু করলে গ্রামবাসী পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে রোববার বিকেল পর্যন্ত পাঠানপাড়া গ্রামে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরে মাইকে প্রচার করে ১৪৪ ধারা মেনে চলার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে সংর্ঘষের পর এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।

সোনাতলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোতালেব জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। নতুন করে সংর্ঘষের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিুবর রহমান জানান, পুনরায় লোকজন সমবেত হয়ে সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়তে পারে এ কারণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার পিরবে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের সংঘর্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী আবুল কাশেমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই দেলওয়ার হোসেন জানান, পিরব বাজারে এই ঘটনার পর থানায় মামলা করা হয়েছে।

লিমন বাসার/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।