গানেই শাহ আবদুল করিম বেঁচে থাকবে অনন্তকাল


প্রকাশিত: ০৪:১০ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৬

মাটির তৈরি মানব শরীর এক সময় মাটিতেই মিশে যাবে, বেঁচে থাকে তার কর্ম। বাউলরা মরে না, গানই তাদের বাঁচিয়ে রাখে। তেমনি গানেই বাউল সাধক শাহ আবদুল করিম বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।

শনিবার নোয়াখালীর চৌমুহনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে শাহ আবদুল করিম জন্মশত বার্ষিকী উৎসবের দুই দিনের সমাপনী দিনে ভক্তি আর কৃতজ্ঞতার সুরে এভাবে কথাগুলো বললেন বক্তা ও শিল্পীরা।

দুপুর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি। বিকেলে থামলেও বৈরি আবহাওয়ার চাদরে ঢাকা ছিল সময়গুলো। সন্ধ্যায় আলোচনার আগেই বাদকদের ঢাক, ঢোল আর বাঁশির সুমধুর সুর গান পাগলদের বাধ্য করে ছুটে আসতে। আঁধার যতই ঘনিয়ে আসে বাউল শিল্পীদের দরাজ কণ্ঠের গান, ঢাক-ঢোল আর নানা বাদ্যযন্ত্রের মাতলামী ততই বাড়তে থাকে। গানের সুর আর বাদ্যযন্ত্রের মাতলামিতে মাতাল হতে থাকে শত ভক্ত আর সহস্রাধিক শ্রোতা।

উৎসবের সমাপনী দিনেও একুশে পদকে ভূষিত শাহ আবদুল করিমের লেখা বাউল গান, গণসংগীত ও সমবেত নৃত্য পরিবেশন করা হয়েছিল। সাবেরা সুলতানা মুন্নি, ইকবাল সাই, শামীম আহম্মেদ, হীরামন দাস, গণসংগীত শিল্পী আংশুমান দত্ত অঞ্জন, আবদুল মান্নান, দিল বাহার, বাউল সাহানা আক্তার, বাউল সূর্য লাল সাহার পাশাপাশি ঢাকা, সিলেট ও স্থানীয় পর্যায়ের অর্ধশত শিল্পী প্রায় শত গান শুনিয়ে গেছেন বাউল গান পাগল সহস্রাধিক শ্রোতাদের।

গাই গাই আমার মনরে বুঝাই। আমি কুল হারা কলঙ্কিনি।, মায়া লাগাইয়ে, বন্দে মায়া লাইগাইছে, ‘কেবা শত্রু কেবা মিত্র, বুঝে উঠা দায়।, শোষক তুমি হও হুঁশিয়ার, চল এবার সাবধানে’।... গানসহ অসংখ্য বাউল গান ও গণসংগীত গেয়ে শোনান শাহ্ আবদুল করিমের অনুজ শিষ্য, গণসংগীত ও বর্তমান প্রজন্মের দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ও স্থানীয় সংগঠনের শিল্পীরা।

আয়োজক পর্ষদের নোয়াখালী শাখার সদস্য সচিব আবুল ফারাহ পলাশ জাগো নিউজকে জানান, এসব উৎসব সাধারণত ঢাকা কেন্দ্রীক হয়ে থাকে। তবে শাহ আবদুল করিমের জন্মশত বার্ষিকী উৎসবটি বিভাগীয়ভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এজন্য জাতীয় পর্যায়ে শাহ আবদুল করিম জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন পরিষদও গঠন করা হয়েছে।

Noakhali-Sha

একই সঙ্গে যে যে অঞ্চলে এ বছর জন্ম উৎসব পালিত হচ্ছে- সে স্থানেও পর্ষদ করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিভাগের উৎসবটি পর্ষদের নোয়াখালী শাখা জেলার চৌমুহনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজন করা হয়। বিকেলে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও গান চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

শনিবার দ্বিতীয় দিন ও সমাপনী দিনে বৈরি আবহাওয়ার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করা সম্ভব না হলেও শেষ পর্যন্ত শ্রোতাদের ঢল ছিল। গান আর সাধক শাহ আবদুল করিমের জীবনের নানা দিক আলোচনার মধ্য দিয়েই শেষ হয় জন্ম উৎসব।

বাউল সাধক শাহ আবদুল করিমের ভক্তরা মনে করেন, শাহ আবদুল করিম গানে শুধু তার ভাটি অঞ্চলের মানুষের কথা বলেনি। বলেছেন মানুষের প্রেম-বিরহ আর দুনিয়ার বঞ্চিত সব মানুষের কথা। তাই শুধু শিষ্যরাই তার ভক্ত নয়। আপামর মানুষ ও প্রগতিশীলমনারাও এ সাধকের ভক্ত রয়েছে। আগামী দিনে এ সাধকের গান ও জীবনীকে প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরো ভালো কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করবে, সমাপনী দিনে এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তারা।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই দিনব্যাপী শাহ আবদুল করিম জন্মশত বার্ষিকী উৎসবের সমাপনী দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সাল। শাহ আবদুল করিম জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন জাতীয় পর্ষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক সামসুল আলম সেলিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পর্ষদের সদস্য সচিব হাসান আরিফ, যুগ্ম-আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম বাবু, বরেণ্য সংগীত শিল্পী জামাল উদ্দিন হাসান বান্না, জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন নোয়াখালী পর্ষদের আহ্বায়ক মো. মাহবুবুর রশীদ তারেক।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন পর্ষদের নোয়াখালী শাখার সদস্য সচিব আবুল ফারাহ পলাশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খেলাঘর নোয়াখালী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিপক আইচ।

মিজানুর রহমান/এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।