শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে ম্নানোৎসবে লাখো ভক্তের সমাবেশ
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার পূর্ণব্রহ্ম হরিচাঁদ ঠাকুরের ২০৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে তার লীলা ভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে ৩ দিন ব্যাপী মহাবারুনীর স্নান উৎসব শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ওড়াকান্দির গদিনশিন ঠাকুর মতুয়াচার্য্য শ্রী শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুর কামনা ও বাসনা সাগরে স্নান করে এ স্নানোৎসবের উদ্বোধন করেন।
ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চল থেকে আগত লাখ লাখ নারী-পুরুষ মতুয়া ভক্ত স্নানোৎসবে অংশ নেন। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, হরি ধ্বনি দিয়ে, হরি বোল বলতে বলতে মাতোয়ারা হয়ে তারা স্নানে অবগাহন করেন। এ সময় পাপ মোচন ও আত্মমুক্তির জন্য প্রার্থনা করেন। তারা বিশ্বাস করেন এ স্নানের মাধ্যমে পাপ- তাপ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এর ফলে তাদের জীবন পরিশুদ্ধ হয়ে উঠবে। এবছর এ উপলক্ষে মেলায় বিপুল ভক্ত সমাবেশ ঘটেছে।
মতুয়া ধর্মাবলম্বী পূণ্যার্থীরা পূণ্যের আশায় বুধবার সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত ঠাকুর বাড়ির এ দু’টি দীঘিতে তাদের পূণ্যস্নান শেষ করবেন। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা মূলত এ অঞ্চলের একটি সার্বজনীন উৎসব। প্রতিবছর এ মেলা হিন্দু মুসলিম মিলন মেলায় পরিণত হয়। উৎসবের আমেজে ঠাকুর বাড়ির নবজাগরণ ঘটে। ভক্তদের পদচারণায় মূখরিত হয়ে ওঠে শ্রীধাম অঙ্গণ। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে তিনদিন ব্যাপী এ মেলা বসে। মেলায় বাঁশ, বেত, মৃৎ, কাঠ, মিষ্টি মন্ডার দোকান বসে।
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল সরকার জানান, মেলায় কোনো প্রকার অসম্প্রীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। ভক্তদের জন্য ছিল ভক্ত সেবার ব্যবস্থা। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিরলস পরিশ্রম করে মেলায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখে।
মেলা কমিটির অপর সদস্য ড. অসীত বরন রায় বলেন, মেলায় আগত অনেক ভক্ত মাঝে মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের জন্য এবার বেশ কয়েকটি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। বিতরণ করা হয়েছে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ঔষধ পত্র। দু’শ বছরের প্রচীনতম এ মেলায় এত ভক্ত সমাবেশ হলেও কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান।
হুমায়ূন কবীর/এফএ/আরআইপি