মাতুব্বরের ১১৪তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু


প্রকাশিত: ০৪:৪৬ এএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪

আরজ আলী মাতুব্বরের ১১৪তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার। এ উপলক্ষে চরবাড়িয়ার লামচরিতে দার্শনিক আরজ মঞ্জিল পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বই মেলা, পদক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বুধবার সকাল ১০টায় তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল আলম।

প্রথমদিনের অনুষ্ঠানে রয়েছে আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃতি, বাউল সংগীত, নৃত্যানুষ্ঠান। দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার থাকছে রচনা প্রতিযোগীতা, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃতি ও সংগীতানুষ্ঠান। এছাড়া তৃতীয় দিন ১৯ ডিসেম্বর থাকছে ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পদক প্রদান, বৃত্তি প্রদান ও প্রতিযোগীদের পুরষ্কার বিতরণ, লোকসংগীত।

জানা গেছে, স্ব-শিক্ষিত, স্বধর্মত্যাগী দার্শনিক, মানবতাবাদী, চিন্তাবিদ লেখক এবং সত্যের সন্ধ্যানে লৌকিক দর্শন প্রখ্যাত দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর ১৩০৭ সনের ৩  পৌষ বরিশাল শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত লামছড়ি গ্রামে গরীব কৃষক পরিবারে তিনি জন্মগ্রহন করেন। তার প্রকৃত নাম ছিলো ‘আরজ আলী’। আঞ্চলিক ভূস্বামী হওয়ার সুবাধে তিনি ‘মাতুব্বর’ নাম ধারণ করেন।

গ্রামের মক্তবে কিছুকাল পড়াশোনা করলেও পরে নিজ সাধনায় তিনি বিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্ম ও দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জ্ঞান অর্জন করেন। বারো বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর পারিবারিক ভাবে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় পড়ায় তার আর স্কুলে পড়ার সুযোগ হয়নি। কৃষিকাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি জমি জরিপ বা আমিনের কাজ শিখে নেন। এরপর জমি জরিপের কাজকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।

শৈশবে মায়ের মৃত্যুর পর মায়ের ছবি তোলার দায়ে গ্রামের মানুষ তার মায়ের জানাজা পড়তে রাজি হয় নি। পরে বাড়ির কয়েকজন লোক মিলে তার মায়ের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করেন। এই ঘটনা আরজ আলীর ধর্মীয় মৌলবাদ ও কুসংস্কার বিরোধিতার এবং সত্যানুসন্ধিৎসু হয়ে উঠার পেছনে কাজ করেছিল। ধর্ম, জগত ও জীবন সম্পর্কে নানামুখী জিজ্ঞাসা তার লেখায় উঠে এসেছে যা থেকে তার প্রজ্ঞা, মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়।

১৫ই মার্চ ১৯৮৫ সাল (বাংলা সনের ১লা চৈত্র ১৩৯২) তিনি ৮৬ বছর বয়সে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে মারা যান তিনি। তিনি মরণোত্তর চক্ষুদান এবং মেডিকেলের ছাত্রদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগে মরণোত্তর দেহদান করেন।

এক সময় মানুষ ও জীবন সম্পর্কে তার মনে প্রশ্ন জাগায় তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ও নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ১৩৮৬ বঙ্গাব্দে নিজের বাড়িতে ‘আরজ মঞ্জিল’ পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয় চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করেন। দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর  পদক ২০১৪ মনোনীত হয়েছেন ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন (মরোনত্তর)।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।