নৌকার বিরুদ্ধে মন্ত্রী-ওসি : অভিযোগ আ.লীগের
২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ও গুনিয়াউক ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে নাসিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের বিরুদ্ধে ওই দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করারও অভিযোগ করা হয়।
রোববার রাত ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আল মামুন সরকার বলেন, নাসিরনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়নের নীতিমালা লঙ্ঘন করে স্থানীয় ডাক বাংলোয় বসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়ন দেন। ছয় সদস্যের মনোনয়ন বোর্ডে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকলেও নাসিরনগরে তাদের ছাড়াই (জেলা আ. লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) মন্ত্রী প্রার্থী চূড়ান্ত করেন। এর মধ্যে হরিপুর ইউনিয়নে রাজাকার পুত্রকে মনোনয়ন দেয়া হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। আর গুনিয়াউক ইউনিয়নে একজন জনপ্রিয় প্রার্থীকে বাদ দিয়ে মন্ত্রীর ভাগ্নে হুমায়ুন কবির দরবেশকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়। সেখানেও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এ দুটি ইউনিয়নে মনোনয়ন পুনঃবিবেচনা করতে বললে জেলা আওয়ামী লীগ সেখানে কেন্দ্রের নির্দেশে দুইজন যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে।
তিনি বলেন, মন্ত্রীর দেয়া প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ায় তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। ওই দুই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে না পারেন সেজন্য মন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনকে দিয়ে দলীয় প্রার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করছেন।
তিনি আরও বলেন, হরিপুর ইউনিয়নে রাশেদুল হক নামে একজনকে বিদ্রোহী প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ভোট নষ্ট করবে। আর এতে বিএনপি প্রার্থী জামাল জয়ী হবে। গুনিয়াউক ইউনিয়নেও বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন মন্ত্রী। সেখানে মন্ত্রীর ভাগ্নে মনোনয়ন বঞ্চিত হুমায়ুন কবির দরবেশ বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন করছেন। তার নেতৃত্বে শুক্রবার গুনিয়াউকের গুটমা গ্রামে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ব্যানার ও পোস্টার আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে গুনিয়াক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম সামদানী শনিবার থানায় মামলা দিলেও নাসিরনগর থানার ওসি আবদুল কাদের এখন পর্যন্ত মামলাটি রেকর্ড করেননি। উল্টো দু-জন আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মীকে রাতে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে জামায়াত-শিবির বানিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন মামলায় জেলে পাঠান।
আল মামুন সরকার আরও বলেন, বিষয়টি আমরা পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। আমি নিজেও ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। ওসি আমাকে বলেছেন মন্ত্রীর নির্দেশে তাদের গ্রেফতার করে এ ধরনের মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। আমরা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর পুলিশ সুপারকে ফোন করে মন্ত্রী বলেছেন, আপনি আসামিদের পক্ষে কোনো তদবির করলে আপনাকেও ছাড়বো না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান বাবুল, গোলাম মহিউদ্দিন খোকন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
আজিজুল আলম সঞ্চয়/এসএস/এমএস