দিনাজপুরে কলেজছাত্রীর শ্লীলতাহানি করলো দুই ছাত্রলীগকর্মী


প্রকাশিত: ১২:১৩ পিএম, ০২ মে ২০১৬

ছাত্রলীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে দিনাজপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে । এই ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে আটক করলেও মূল অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ওই ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ওই দুই ছাত্রলীগ কর্মী হলেন, ট্রেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ৫ম পর্বের ছাত্র সুলতান মাহমুদ শিহাব ও ইমরান হোসাইন। শিহাব গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার জরিপপুর গ্রামের জুলফিকার মৃধার ছেলে ও ইমরান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানার আকন্দপাড়া গ্রামের জাকিরুল হোসাইনের ছেলে। তারা দুজনেই ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগের ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্য।

প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষার্থী ও ওই ছাত্রীর দেয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানের ২য় পর্বের শ্রেণিকক্ষে ৫ম পর্বের শিক্ষার্থী সুলতান মাহমুদ শিহাব ও ইমরান হোসাইন আসে। এ সময় তারা ওই ছাত্রী ছাড়া শ্রেণিকক্ষের অন্যসব শিক্ষার্থীকে বের হয়ে যেতে বলে। এক পর্যায়ে ইমরান নিজেও শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে শিহাব ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন বাজে কথাবার্তা বলে ও লাঞ্ছিত করে। এর আগেও শিহাব ওই ছাত্রীকে রাস্তায় ও ফোনে বিরক্ত করতো বলে ওই ছাত্রী তার অভিযোগে উল্লেখ করেছে। এ ঘটনায় ওই শ্রেণির মোট ২২ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষী হিসেবে অভিযোগে স্বাক্ষর দিয়েছেন।

ঘটনার পরে ওই ছাত্রী ও তার সহপাঠীরা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এবিএম ফজলুল করিমের কাছে একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ইমরান হোসাইনকে পুলিশ আটক করলেও মূল অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সামান্য বলে ছেড়ে দেয়।
 
এদিকে, ঘটনা জানাজানির পর দিনাজপুরের সাংবাদিকরা প্রতিষ্ঠানে গেলে ঘটনাটি সামান্য আখ্যা দিয়ে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এবিএম ফজলুল করিম বলেন, বিষয়টি আভ্যন্তরীণভাবে মিমাংসা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এটি একটি সামান্য ঘটনা। ভুল বোঝাবুঝির জন্য এই ঘটনা ঘটেছে। একজনকে আটক করে তার কাছ থেকে মুছলেকা নেয়া হয়েছে আর মূল অভিযুক্তকে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি।
 
অপরদিকে এই ঘটনা সম্পর্কে পুুলিশ কিছু জানে না বলে কোতয়ালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খালেকুজ্জামান বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ বা ভিকটিম এ ব্যাপারে আমাদেরকে কিছু জানায়নি।  

এমদাদুল হক মিলন/এফএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।