বোরোর দাম নিয়ে বিপাকে কৃষক
জয়পুরহাটে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাজার মূল্য নিম্নমুখী হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে বেশির ভাগ কৃষককে গুণতে হবে লোকসান।
জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধান চাষ হয়েছে প্রায় ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। বাম্পার ফলনের পাশাপাশি তাদের আশা ছিল ধানের ভালো দামও পাবেন। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি কৃষকদের।
কালাই উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের কৃষক শফির উদ্দিন, অজিমুদ্দিন, ফিতা মিয়া ও আনিছুর রহামান জানান, তাদের নিজের তেমন জমি না থাকায় বর্গা জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করেছেন। ধানের চারা রোপণ, সেচ, কিটনাশকসহ সব মিলে তাদের বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১০/১১ হাজার টাকা। এ অবস্থায় নিজের পারিশ্রমিকের মূল্য বাদ দিলে কোনো রকমে চাষাবাদের খরচ আর ধান বিক্রির আয় প্রায় সমান হয়ে যাচ্ছে।
আক্কেলপুর উপজেলার কোলা গ্রামের গফুর মিয়াসহ অনেক ধান চাষী জানান, এ মৌসুমে বিঘা প্রতি ধান উৎপাদন হয়েছে ১৮/২০ মণ। প্রতি বিঘায় ধান বিক্রি করে কৃষকরা পাচ্ছেন সাড়ে ৮ হাজার থেকে সাড়ে ১০ হাজার টাকা। এ অবস্থায় তাদের প্রতি বিঘা জমির ধান বিক্রি করে ২/১ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। 
পাঁচবিবি উপজেলার শাইলট্টি গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন, চানপাড়া গ্রামের হামিক হোসেনসহ অনেকে জানান, সরকার এবার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মণ প্রতি ৯২০ টাকা দরে ধান কিনবেন বলে তারা জানেন। কিন্তু তাদের মতো অধিকাংশ কৃষক সেই সুযোগ পাচ্ছেন না।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার ইটাখোল বাজারের ধান ব্যাবসায়ী সাইফুল ইসলাম, কালাই উপজেলার মোলামগাড়ীহাটের ধান ব্যবসায়ী মোহসিন আলী সহ অন্যান্য ধান ব্যবসায়ীরা জানান, তারা কম দামে কিনে মন প্রতি ৪/৫ টাকা লাভে বড় মহাজনদের কাছে বিক্রিও করছেন কম দামেই। এতে কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্থ বলে ধান ব্যাবসায়ীরা স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ তেমন কোনো মন্তব্য করতে চাননি। জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ জেড এম ছাব্বির ইবনে জাহান জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্য দেয়া শুরু হলে এ সমস্যা থাকবে না।
রাশেদুজ্জামান/এসএস/পিআর