বিমার দাপটের দিনে পতনে শেয়ারবাজার
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (৭ মে) শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বিমা খাতের কোম্পানি। তবে অন্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক কমেছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা পার হওয়ার পর দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো।
বিমা কোম্পানিগুলো দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকলে বিপরীত পথে হাঁটতে থাকে অন্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে বিমার দাপটের দিনে একদিকে দাম কমার তালিকা বড় হয়, অন্যদিকে মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৮টির। আর ৭২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে ৪২টি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ১৪টির দাম কমেছে। আর ২টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯২টির দাম কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪২টির এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৪টির এবং ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৯টির দাম বেড়েছে এবং ১১টির দাম কমেছে ও ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৪৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৬৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৭৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুন্নু সিরামিকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার। ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স, স্যালভো কেমিক্যাল, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, এপেক্স স্পিনিং, টেকনো ড্রাগস, মীর আখতার হোসেন লিমিটেড এবং ইস্টার্ন ব্যাংক।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৯৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৫টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২০ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
এমএএস/এমআইএইচএস