মূল্যস্ফীতি-বিনিয়োগ স্থবিরতা ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৮ পিএম, ১৬ মে ২০২৬
ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই)’ শীর্ষক সেমিনার

মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।

রাজধানীর সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই)’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শনিবার (১৬ মে) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সেমিনারে দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, শিল্পখাতের সংকট ও ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীরা।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ, বিনিয়োগে মন্থরতা, জ্বালানি অনিশ্চয়তা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রচলিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা ও তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের প্রতিফলন যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছে না। এ কারণে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নে ডিসিসিআই অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক (ইপিআই) চালু করেছে, যা নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তাদের কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। এতে উৎপাদন ও সেবা খাতের মোট ৭৬২ জন প্রতিনিধির মতামত নেওয়া হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিখাতে খাদ্য উৎপাদন কমছে, জ্বালানি সংকটে শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সেবাখাতও চাপে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, এসএমই খাতে স্বল্পসুদে ঋণ, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় হয়রানি কমানোর ওপর জোর দেন তিনি।

সাপোর্ট টু সাসটেইন্যাবল প্রজেক্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেসার আহমেদ বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসএমই খাত। তাই ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় কমানো এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রবণতা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা। তিনি জানান, ব্যবসা সহজীকরণে সরকার আমদানি নীতিমালা যুগোপযোগী করার কাজ করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, কয়েক বছর ধরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে আয় অপেক্ষা ব্যয় বেশি হওয়ায় অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বিনিয়োগ স্থবিরতা অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শিল্প অর্থায়নে বাংলাদেশ এখনো ব্যাংকখাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। অথচ এ ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন ছিল।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যুগ্ম সচিব মো. আরিফুল হক বলেন, সরকারি সেবায় ডিজিটাল কার্যক্রম বাড়ানো গেলে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. আখন্দ মোহাম্মদ আখতার হোসেন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বৈদেশিক বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশনের (আইএফসি) সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট মিয়া রহমত আলী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

সেমিনারে ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন।

ইএআর/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।