ভর্তুকি ও বাড়তি সুবিধা পেয়েও অগ্রগতি নেই টেলিটকের
মোবাইল গ্রাহক, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও ডাটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে গত এক দশকে বড় অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশ এখনো ‘প্রযুক্তি ব্যবহারের বাজার’ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। এছাড়া ভর্তুকি ও বাড়তি সুবিধা পেয়েও অগ্রগতি নেই দেশীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটকের। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় নিজস্ব উচ্চমূল্যের তথ্যপ্রযুক্তি তৈরি, বৈশ্বিক সেবা রপ্তানি এবং মৌলিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনেও বাংলাদেশ এখনো বেশ পিছিয়ে।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এ আলোচনার আয়োজন করে।
আন্তর্জাতিক বাজারের মতো উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি উদ্ভাবন বা সেবা রপ্তানি হাব হিসেবে পুরোপুরি আত্মপ্রকাশ করতে পারেনি। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে টেলিকম খাতের অবদান ৮ শতাংশ থেকে আরও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব, যদি সঠিক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
টিআরএনবির সভাপতি সমীর কুমার দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবি’র হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা-ছবি সংগৃহীত
রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম বলেন, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৫-২৬ নাগাদ দেশের মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ৩৯ শতাংশ বেড়ে ১৮ কোটি ৬০ লাখে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩৭ শতাংশ বেড়ে মোট জনসংখ্যার ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, একই সময়ে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহার ৮৬ জিবিপিএস (গিগাবিট পার সেকেন্ড) থেকে ১২৭ গুণ বেড়ে প্রায় ১০ হাজার ৯৫৪ জিবিপিএসে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকপ্রতি মোবাইল ডাটা ব্যবহারের পরিমাণ ১০০ এমবি থেকে ৮০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ জিবিতে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, সংযোগ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য এলেও বাংলাদেশ এখনো মূলত একটি ‘ডিজিটাল কনজাম্পশন’ বা প্রযুক্তি ব্যবহারের বাজার হিসেবেই রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের মতো উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি উদ্ভাবন বা সেবা রপ্তানি হাব হিসেবে পুরোপুরি আত্মপ্রকাশ করতে পারেনি। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে টেলিকম খাতের অবদান ৮ শতাংশ থেকে আরও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব, যদি সঠিক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল কবীর বলেন, ভর্তুকি ও বাড়তি সুবিধা পেয়েও টেলিটকের অগ্রগতি নেই। ভর্তুকি, বাড়তি স্পেকট্রাম ও নানা ধরনের নীতিগত সুবিধা পাওয়ার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, টেলিটক কেন শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও গ্রাহকভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলো, সেটির কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সক্ষম করতে বিদেশি বিনিয়োগ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইএইচটি/এসএইচএস