সুশাসনে ব্যাংকে নজরদারি বাড়ান : গভর্নর


প্রকাশিত: ০৯:৫৫ এএম, ২৫ জানুয়ারি ২০১৫

ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আরো সর্তক  থাকতে ও নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলছেন, ব্যাংক খাতে কিছু অস্বস্তিকর দিক আছে। তার মধ্যে রয়েছে খেলাপি ঋণ, বিনিয়োগে মন্থর গতি ও ব্যাংকের শাখা পর্যায়ের অনিয়ম। ২০১৩ সালের প্রলম্বিত রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বমানের শ্রেণিবিন্যাস ও প্রভিশনিং নিয়ম চালুর কারণে খেলাপি ঋণের হার এককালীন উল্লম্ফন হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভাগীয় প্রধান-মহাব্যবস্থাপকদের আরো সর্তক থাকতে বলেছেন তিনি।

রোবাবার দিনব্যাপী মহাব্যবস্থাপক সম্মেলনের প্রথম পর্বে তিনি এ নির্দেশনা দিয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

গভর্নর বলেন, আপনাদের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ঋণ আদায়ে আরো মনোযোগী হতে ক্রমাগত নির্দেশ দেওয়া এবং সময়োপযোগী নীতি গ্রহণের কারণে খেলাপি ঋণের হার কমবে বলে আশা করা যায়। তবে অভ্যাসগত খেলাপি গ্রাহকরা যাতে কোনো ধরনের ছাড় না পায় সেদিকটা আপনারা খেয়াল রাখবেন। মন্দ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে আমরা দ্বিধা করব না। এজন্যে ব্যাংকগুলোকে সর্বক্ষণ গুণমানের ঋণ দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আপনারা নজরদারি অব্যাহত রাখবেন।

আতিউর রহমান বলেন, আপনারা আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি জোরদার, জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৌশলগত রেগুলেটরি নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং বেগবান করা, বাংলাদেশ ব্যাংকের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনায় তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ ঘটানো, মানবসম্পদের সক্ষমতা তৈরি ও এর সুষ্ঠু ব্যবহার, গবেষণা ও পরিসংখ্যানগত তথ্যের উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের মর্যাদাকে আরো বাড়াতে সচেষ্ট থাকবেন বলে আমি আশা করি।

এসময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে মহাব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছে।

মুদ্রানীতির প্রসঙ্গ টেনে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তিনদিন পরেই মুদ্রানীতি ঘোষিত হবে। এবারের মুদ্রানীতিতেও দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সব প্রচেষ্টাই গ্রহণ করা হবে।

সম্মেলনে সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কৌশলের সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব বিষয়ের ওপর গ্রহণ করেছে তা নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং বিশেষ করে কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের জন্যে ঋণ সম্প্রসারণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও নারীর ক্ষমতায়ন, গ্রীন ব্যাংকিং, আর্থিক খাতের আধুনিকায়ন, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, রপ্তানি উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন উদারিকরণ।

মহাব্যবস্থাপক সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেইঞ্জ ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক আল্লাহ মালিক কাজমী, চার ডেপুটি গভর্নর, প্রধান অর্থনীতিবিদ বীরুপাক্ষ পালসহ ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএ/এমএএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।