বাংলাদেশের কনডম যাচ্ছে শ্রীলংকায়
বাংলাদেশের তৈরিকৃত কনডম শ্রীলংকায় রপ্তানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করায় এবার ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডায় রপ্তানীর আলোচনা চলছে। ফলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় ঔষধের পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরিকৃত কনডম রপ্তানি করে বৈদেশিক উপার্জন করা সম্ভব হবে বলে সংসদীয় কমিটিতে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে দশম জাতীয় সংসদের ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র ৪র্থ বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের কনডম রপ্তানীর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম সভাপতিত্ব করেন।
জানা যায়, শ্রীলংকায় ঔষধ রপ্তানির অংশ হিসেবে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন ও প্রোডাক্ট রেজিস্ট্রেশনের কার্যাবলী চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) শ্রীলংকায় ১ দশমিক ৩৩ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের ঔষধ ও কনডম রপ্তানী করেছে এবং ৪ দশমিক ২০ লাখ মার্কিন ডলারের ঔষধ ও কনডম রপ্তানী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া মায়ানমার ও ভিয়েতনামেও ঔষধ রপ্তানীর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এছাড়া বৈঠকে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড এর বর্তমান কার্যক্রম বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এতে জানানো হয়, গোপালগঞ্জে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড এর তৃতীয় শাখা কারখানা প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত দশ একর জমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্পের জন্য কনসালটেন্সি ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসেনসিয়াল ড্রাগসের তৃতীয় শাখাটি চালু হলে জরুরী ও জীবন রক্ষাকারী ঔষধ, পরিবার-পরিকল্পনা কার্যক্রমে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় ঔষধ ও ইনজেকশন উৎপাদন এবং রপ্তানীর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন সম্ভব হবে।
কমিটি চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করে। কমিটি অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে আরও ঔষধ রপ্তানী বৃদ্ধির সুপারিশ করে।
বৈঠকে কমিটি সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, মো: ইউনুস আলী সরকার, নিজাম উদ্দিন হাজারী, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এবং সেলিনা বেগম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরএস/আরআই