কালো টাকা বিনিয়োগে সুযোগ চায় ডিসিসিআই


প্রকাশিত: ০১:৫১ পিএম, ২৫ মে ২০১৫

বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করে সংগঠনটি অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার বিপক্ষে এ মত দেন। এসময় সংগঠনটি সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করে তা অাসন্ন বাজেটে তা বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর সহায়তা চান।

ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদের নেতৃত্বে বৈঠকে ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ, সহ-সভাপতি মো. শোয়েব চৌধুরী, পরিচালক ও প্রাক্তন সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান, পরিচালক একেডি খায়ের মোহাম্মদ খান, আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, আসিফ এ চৌধুরী, খ আতিক-ই-রাব্বানী, এফসিএ, মোক্তার হোসেন চৌধুরী, নেসার মাকসুদ খান, ওসমান গনি, আহ্বায়ক ও প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি হায়দার আহমদ খান, এফসিএ এবং ডিসিসিআই মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ব্যাংক ঋণের সুদের হার হ্রাসকরণ, গ্যাস- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনসহ অবকাঠামোগত খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের ওপর জোরারোপ করেন। তিনি আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার জন্য সরকার স্কিম বন্ধ করায় সাধুবাদ জানান। পাশাপাশি কালো টাকার উৎস বন্ধ করা এবং বাজেটে নির্ধারিত করের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে কালো টাকা বৈধ করার যে সুযোগ যেন শুধুমাত্র উৎপাদানশীল খাতে ব্যবহার করা হয় তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি কর আইন ২০১২ সহ সকল আইন ব্যবসাবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি নতুন কর আইন ২০১২ তে প্রস্তাবিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেন। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবজরের জন্য ব্যক্তিগত আয়কর সীমা দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেন। এছাড়াও তিনি মার্চেন্ট ব্যাংক-এর ক্ষেত্রে কর্পোরেট করের হার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৩৫ শতাংশ করা এবং লিস্টেড কোম্পানিজ-এর ক্ষেত্রে কর্পোরেট করের হার ২৭ দশমিক ৫ থেকে হ্রাস করে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।

খালেদ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে খসড়া পিপিপি আইনটি দ্রুত প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি বাজেট পিপিপি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সদ্ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দেশব্যাপি করের আওতা বৃদ্ধির সুপারিশও করেন।

তিনি জানান, রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে বিভিন্ন বন্দরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পণ্য খালাস না হওয়ার ফলে ব্যবসায়ীদেরকে অতিরিক্ত বন্দর শুল্কসহ বিভিন্ন চার্জ ও জরিমানা বহন করতে হয়েছে। তাই রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সকল ধরনের বন্দর শুল্কসহ বিভিন্ন চার্জ ও জরিমানা ন্যূনতম ৫০ শতাংশ মওকুক করার দাবি জানান।

এসময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, এবারের বাজেটে রিফাইনারি খাতে বরাদ্দ রাখা হবে এবং সরকার কমপক্ষে পাঁচ মিলিয়ন টন পেট্রোলিয়াম ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি রিফাইনারি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ এক নম্বর রফতানিকারক দেশে পরিণত হবে এবং ২০৩০ সালে এ খাত থেকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। অর্থমন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়ে বাস্তাবভিক্তিক সমন্বয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি সকল করদাতাদের জন্য ট্যাক্স কার্ড প্রদানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এসএ/এসকেডি/বিএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।