মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে জিডিপিতে পিছু হটবেন মুহিত
মূল্যস্ফীতির চিড়ে-চ্যাপ্টা পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে ঘোষণা আসছে আসন্ন বাজেটে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে ৬ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তবে তিনি পিছু হটতে যাচ্ছেন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে।
আগামী ৪ জুন বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট পেশ করবেন মুহিত। তিন লাখ একশ কোটি টাকার বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থাকছে এক লাখ নয়শ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে সংস্থার নিজস্ব তহবিল রয়েছে। সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল বাদ দিলে এডিপির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭ হাজার কোটি টাকা।
জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষকে বেশি কষ্ট দেয়। এটি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় মুহিত বলেছিলেন, মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। সেটি করতেও পেরেছেন। বর্তমান সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। যদিও টানা চার মাস মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল্যস্ফীতির লাগাম আরো কিছুটা টেনে ধরে জনমনে স্বস্তি আসতে চান সদা হাস্যোজ্জ্বল মুহিত। অবশ্য অর্থনীতির অনেকগুলো ইতিবাচক সূচকের মধ্যে মূল্যস্ফীতি একটি।
এদিকে, আসন্ন বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। বর্তমান বাজেটে যা ছিলো ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে জিডিপির লক্ষ্য নির্ধারণে কিছুটা পিছু হটতে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে। কারণ গত ছয় বছরে তিনি বাজেটের আকার চারগুণ বাড়ালেও জিডিপি নিয়ে খুব বেশি সাফল্য আসেনি দেশের অর্থনীতিতে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ঘুরপাক খাচ্ছে ৬ শতাংশের ঘরে।
সবশেষ চলতি অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জিডিপির প্রাক্কলন করেছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। যদিও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো বলছে এটিও অর্জিত হবে না। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপি অর্জিত হয় ৬ দশমিক ১ শতাংশ।
জানা গেছে, মুহিত এক পর্যায়ে চিন্তা করেছিলেন বাজেটের আকার নির্ধারণ করবেন দুই লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তখন বিবেচনায় ছিলো এডিপি হবে ৯১ হাজার কোটি টাকার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এডিপি বাড়িয়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ফলে বাজেটের আকার তিন লাখ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত নেন মুহিত।
এর মধ্যে রাজস্ব আদায় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব হবে এক লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা।
জানা গেছে, বর্তমান বাজেটে এক লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে ছিলো এনবিআর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। তিন প্রান্তিকে আদায় হয়েছে ৯২ হাজার কোটি টাকা।
এসএ/এসকেডি/বিএ/পিআর