পুঁজিবাজার উন্নয়নে বাজেটে যেসব প্রস্তাব
দেশের পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর্পোরেট কর, লভ্যাংশের হার বাড়ানোসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পেশকালে এসব বিষয় প্রস্তাব করেন তিনি।
সরকারের ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন পেলে পুঁজিবাজারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে। বেসরকারি খাতের শিল্পোদ্যোক্তারা তাদের কোম্পানির জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী হবে, এতে শিল্পখাত আরো শক্তিশালী ও বিকশিত হয়ে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যা দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরো বেশি আকৃষ্ট করবে।
পুঁজিবাজারের জন্য যেসব প্রস্তাব রয়েছে :
বাড়ছে করমুক্ত লভ্যাংশ সীমা : ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ থেকে আয়ের করমুক্ত সীমা ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান অর্থবছরে এ সীমা ২০ হাজার টাকা। এটি বাড়িয়ে ২৫ হাজার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভালো লভ্যাংশ না দিলে জরিমানা : স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ভালো লভ্যাংশ দেওয়ায় উৎসাহিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে।
তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি ১৫ শতাংশের কম লভ্যাংশ ঘোষণা করলে জরিমানা হিসেবে গুণতে হবে ৫ শতাংশ বাড়তি কর। তবে আর্থিক খাত তথা ব্যাংক, বীমা ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। শাস্তিমূলক কর হার এড়াতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে অবশ্যই হিসাব বছর শেষ হওয়ার ৬ মাসে মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে হবে।
আইপিওর জন্য কর রেয়াত : কোনো কোম্পানি তার পরিশোধিত মূলধনের ২০ শতাংশ শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে ছাড়লে ওই কোম্পানি সংশ্লিষ্ট বছরের প্রযোজ্য আয়করের ওপর ১০ শতাংশ কর রেয়াত পাবে।
উৎসে কর প্রত্যাহার : বাজেটে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে উৎসে কর আদায় থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩ (ও) ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। গত অর্থবছরে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে ফার্ম বা কোম্পানি করদাতার মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায়ের যে বিধান করা হয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমছে করপোরেট কর : অর্থ আইন ২০১৫ অনুযায়ী ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর হার সাড়ে ৪২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মার্চেন্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ রয়েছে। আর্থিক খাত ব্যাতীত অন্যান্য কোম্পানির কর হার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
টেলিকম কোম্পানির ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ৪০ শতাংশ ও তালিকা বাহির্ভূত কোম্পানির ৪৫ শতাংশের পূর্বের অবস্থা বহাল রয়েছে। অন্যদিকে টোব্যাকো কোম্পানির কর হার ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এসআই/এসএইচএস/আরআই