ছোট প্রতিষ্ঠানে জমজমাট বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৩ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৪:৪৩ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮

শীতের তীব্রতা কমায় শুরুর দিকের ক্রেতা ও দর্শনার্থী খরা কাটিয়ে উঠেছে ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটছে মেলা প্রাঙ্গণে। ফলে মেলায় অংশগ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি বাড়ছে। দিন যত যাচ্ছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি তত উন্নতি হচ্ছে।

মেলার প্রথমদিকে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি খুব একটা না থাকায় অধিকাংশ স্টলের কর্মীদের অলস সময় পার করতে দেখা যায়। এখন আর সেই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রয়কর্মীরা।

মেলায় অংশগ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেলার প্রথম শুক্রবার থেকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রির পরিস্থিতি উন্নতি হতে থাকে। দ্বিতীয় শুক্রবার আসার আগেই ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে ওঠে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যাভিলিয়ন। তবে মেলায় অংশগ্রহণ করা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রয়কর্মী ও উদ্যোক্তাদের মুখে যেন হাসি ছিল না। প্রথম ১০ দিন অনেকটা ক্রেতা সংকটের মধ্যে ছিল ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো।

Fair-6

গত মঙ্গলবার থেকে সেই দৃশ্য পাল্টাতে শুরু করে। এখন অধিকাংশ ছোট স্টলগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভিড় কিছুটা কম থাকলেও বিকালের পর স্টলগুলো যেন টইটুম্বুর। বিশেষ করে নারী-শিশু, বিস্কুট ও গৃহস্থালী পণ্যের দোকনগুলোতে সব সময় ভিড় লেগে থাকছে।

বরাবরের মতো এবারও মেলায় অংশ নেয়া বিরানির স্টলগুলোতে অতিরিক্ত মূল্য নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। তারা ঝুঁকে পড়েছেন বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ফাস্টফুড ও রেডিমেড নুডলসের প্রতি।

ফাস্টফুডের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে টেস্টি ট্রিট’র স্টলে ভিড় সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তাৎক্ষণিক খাওয়ার উপযোগী করে কাপ নুডলস বিক্রি করছে প্রাণ ও কোকোলা এবং রান্না করে নুডলস বিক্রি করছে চপস্টিক। প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রেতাদের লম্বা লাইন চোখে পড়ার মতো।

শিশু ও নারীদের পণ্য বিক্রেতা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, এখন বিক্রি ভালো। প্রথমদিকে বিক্রি খুব একটা ছিল না। গত তিন-চারদিন ধরে ভালো বিক্রি হচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে বিক্রি তত বাড়ছে। মেয়েদের হাতের চুড়ি ও ব্রেসলেট এবং কানের দুল সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।

ggg-01

শিশু খেলনা বিক্রেতা কামরুল হাসান বলেন, মেলার শুরুর দিকে বিক্রি কম ছিল। এখন বেশ ভালো। দিন যত যাচ্ছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়ছে। এজন্য গত মঙ্গলবার থেকে অতিরিক্ত দুজন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে বিক্রি আরো বাড়বে।

মেয়েদের থ্রি-পিসের পসরা সাজিয়ে বসা ফাহিম গিফট হাউজের বিক্রয়কর্মী মুক্তার হোসেন বলেন, এখন ভালো বিক্রি হচ্ছে। প্রথমদিকে তো বিক্রিই ছিল না। মালিক আমাদের বেতন দিতে পারবেন কি না- সেই চিন্তায় ছিলাম। তবে কয়েকদিন ধরে বিক্রির অবস্থা খুবই ভালো। এখন ছুটির দিনগুলোতে বেশি বিক্রি হচ্ছে।

ফাস্টফুডের প্রতিষ্ঠান টেস্টি ট্রিট’র স্টলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সেই ভিড় সামাল দিতে বিক্রয়কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্টলটির এক বিক্রয়কর্মী বলেন, মেলার শুরু থেকে আমাদের এখানে ভিড় লেগে আছে। বিকালের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। আমাদের খাবারের মান ভালো, তাই ক্রেতারা বেশি আসছেন।

এমএএস/এমএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :