সহসা স্থায়ী ঠিকানায় যাচ্ছে না বাণিজ্য মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯

ঢাকার পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারণ করা হলেও সেখানে এখন তা আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, শিগগিরই পূর্বাচলের স্থায়ী ঠিকানায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য আরও সময় লাগবে।

২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা নিয়ে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। ১ জানুয়ারি শুরু হয়ে বাণিজ্য মেলা চলবে মাসব্যাপী।

প্রায় এক যুগ আগে ২০০৭ সালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে স্থায়ী বাণিজ্য মেলা কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে স্থান পরিবর্তন করে বাণিজ্য মেলার জন্য পূর্বাচলে ১০ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ২৭৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে এখনো সে কার্যক্রম শেষ হয়নি।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ হবে। তবে যে জায়গা আমরা পেয়েছি, এর বাইরে আরও জায়গা প্রয়োজন আছে। বিল্ডিংটা আমাদের হয়ে যাবে, কিন্তু গাড়ি পার্কিং, চলাচলসহ আনুষঙ্গিক জায়গা কম আছে।

‘আমরা পূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি, তারা এটি বিবেচনায় রেখেছে। আমার মনে হয় না এই মেলা (ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা) আগামী বছর আমরা ওখানে নিয়ে যেতে পারবো। এখনো অঞ্চলটা সেভাবে ডেভেলপ করেনি। যে কারণে এ ধরনের প্রচুর লোকসমাগমের যে বাণিজ্য মেলা সেটা ওখানে শিগগির করা যাবে বা তার ভালো রেজাল্ট পাওয়া যাবে, এটা সম্ভব নয়।’

টিপু মুনশি বলেন, ওখানে (পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানায়) একটা দিক করা যাবে, সেটা হলো পুরো বছর ধরে বিভিন্ন গ্রুপের বিভিন্ন আইটেম ধরে মেলা করা যাবে। এই যে বসুন্ধরা সেন্টারে বিভিন্ন ধরনের মেলা হচ্ছে। আমি নিজেই গত এক বছরে ৮-১০টা মেলা উদ্বোধন করেছি। কখনো মেশিনারিজ, কখনো লাইট মেশিনারিজ, ইলেকট্রনিক্স, সিরামিক, ফার্নিচার- এই ধরনের মেলা আরও বড়সড় এবং সুন্দরভাবে আমরা ওখানে আয়োজন করতে পারবো। কিন্তু এই ধরনের মেলা (ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা) ওখানে করার মতো এখনো সময় হয়নি বলে আমার মনে হয়। আরও একটু সময় লাগবে।

২০১৯ সালের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরুর আগের দিন তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ঘোষণা দেন, ২০২০ সাল থেকে ঢাকার পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হবে। যদিও ২০১৯ সালে করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু জমির জটিলতায় নির্মাণে কিছুটা দেরি হয়েছে। এখন সব সমস্যার সমাধান হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী মেলা প্রাঙ্গণ নির্মাণ করা হবে।

২০০৭ সালে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের ৩১২ নম্বর সড়কে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্থায়ী প্রাঙ্গণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। চীন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে এ মেলা প্রাঙ্গণ করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২০ একর জমির ওপর বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিসিএফইসি) প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বছরই প্রকল্পের কাজ শুরু করে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

চীনের বেইজিং ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচারাল ডিজাইনের (বিআইডি) নকশা অনুযায়ী, এ প্রদর্শনী কেন্দ্রে দেড় হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, প্রতিটি নয় বর্গমিটারের ৮০৬টি বুথ, দুটি বড় হলরুম, সম্মেলন কেন্দ্র, অভ্যর্থনা কেন্দ্র, বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্র, সভাকক্ষ, প্রেস সেন্টার, সার্ভিস রুম ও সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে।

২০১৫ সালে সংশোধিত এ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে ৭৯৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা চীনের অনুদান এবং ১৩৮ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল এবং ৩২ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) দেয়ার কথা ছিল।

পরে এ ব্যয়ের অংক বাড়িয়ে এক হাজার ৩০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা করা হয়। প্রকল্পের এ ব্যয়ের মধ্যে চীন সরকারের অনুদান আগের মতোই ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা থাকছে। তবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ৪৭৫ কোটি টাকা। ইপিবির নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ২০২ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এমএএস/এইচএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]