প্লাস্টিক মেলা
এক ছাদের নিচে পণ্য-যন্ত্র-কাঁচামাল
ঢাকায় বসেছে প্লাস্টিক মেলা। বিদেশিসহ দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো মেলায় তাদের প্রোডাক্ট নিয়ে এসেছে। প্লাস্টিকের গৃহস্থালি সামগ্রী, খেলনা, আসবাব, মেলামাইন, পোশাকখাতের প্লাস্টিক সরঞ্জাম, পিপি ওভেন ব্যাগ, পণ্য মোড়কীকরণের উপকরণ, প্লাস্টিক মোল্ডসহ আরও অনেক কিছু। এছাড়া মেলায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো প্লাস্টিক ইনজেকশন মোল্ডিং, প্যাকেজিং, ফ্লেক্সোগ্রাফিক, পেট ব্লো, প্লাস্টিক ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির যন্ত্রও প্রদর্শন করছে। ফলে এক ছাদের নিচে মিলছে নানা প্রোডাক্ট।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে এই মেলা। এটি ১৫তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার (আইপিএফ)। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলছে মেলা। যা চলবে শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত। বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) আয়োজনে এ মেলা চলছে।

আরও পড়ুন: প্লাস্টিক পণ্যে বিপ্লবে বাংলাদেশ
বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ জাগো নিউজকে জানান, এ মেলায় বিশ্বের ২১ দেশ অংশ নিয়েছে। যা এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ইভেন্টগুলোর একটি।
তিনি জানান, এবার দেশি-বিদেশি মিলে ৪৯৪টি কোম্পানির ৭৫০টি স্টল মেলায় অংশ নিয়েছে। এতে মেশিনারিজ, মোল্ড, কাঁচামাল উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসহ দেশে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, এবারের মেলায় দেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি। এরমধ্যে চীন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের প্রতিষ্ঠান বেশি। যেখানে বাংলাদেশি বিভিন্ন প্লাস্টিকের ছোট ছোট উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানছেন। আবার বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্টলে তাদের পণ্যের সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: নজর কেড়েছে প্লাস্টিক ও গৃহস্থালি পণ্য
মেলায় উপস্থিত চীনের ভ্যানিমেট ইন্ডাস্ট্রিজের একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের বিভিন্ন যন্ত্র এ দেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পরিচিত করার জন্য মেলায় এসেছি। সাড়াও পাচ্ছি ভালো। আমাদের প্রতিষ্ঠান বেশ আগে থেকে বাংলাদেশে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে। এ দেশে এখন প্লাস্টিকের কাঁচামাল সরবরাহ করার ইচ্ছাও রয়েছে আমাদের।
মেলায় অংশ নিয়েছে দেশের বৃহৎ প্লাস্টিকের পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আরএফএল। ম্যানেজার (করপোরেট সেলস) শাহ মো. আতিউর রহমান বলেন, আমাদের পাঁচ হাজারের বেশি প্লাস্টিক আইটেম রয়েছে। এরমধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাক্ট প্রায় দুই হাজার। বাঁকিগুলো হাউজহোল। যেগুলোর মধ্যে হট আইটেমগুলো একাধিক স্টলে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্লাস্টিক খাতে সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে: শিল্পমন্ত্রী

দেশে খেলনার বাজারে অন্যতম বড় সরবরাহকারী আমান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার কুতুব উদ্দিন মজুমদার বলেন, আগে আমরা খেলনা রপ্তানি করতাম। গত কয়েক বছর সেটা বন্ধ রয়েছে। মেলায় নতুন বায়ার পেলে ভালো হতো।
এদিকে প্রায় ২০ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজিং যন্ত্র আমদানি করে বিক্রি করে আসছে বিএল মেশিনারিজ। আচার মোড়কীকরণ, বিস্কুট ও পপকর্ন তৈরি, বেকারির মিক্সিং, ওভেন ইত্যাদি যন্ত্র নিয়ে প্লাস্টিক মেলায় অংশ নিয়েছে তারা।
মেলার আকিজ প্লাস্টিকসের স্টলের পসরা সেজেছে গৃহস্থালি পণ্য, ফার্নিচার ও ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য নিয়ে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির হেড অব বিজনেস চৌধুরী হাসান তারেক বলেন, নতুন করে আকিজের খেলনা বাজারে আসছে। ব্যবসা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের ৭০০’র বেশি পণ্য বাজারে এসেছে।
আরও পড়ুন: চাহিদা অনুযায়ী প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর
তিনি বলেন, আমরা পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে দেশের সর্বাধুনিক মেশিন ও উন্নত কাঁচামাল ব্যবহার করছি।

দেশের অধিকাংশ কোম্পানি বিদেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করে। সে কারণে মেলায় প্লাস্টিক কাঁচামাল সরবরাহকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি।
ভারতের এমন একটি প্রতিষ্ঠান ইনার প্লাস্টিকের সেলস ম্যানেজার জায়ান্তা পাউল বলেন, এটি (বাংলাদেশ) আমাদের জন্য বিশাল বাজার। প্রতি বছর এ মেলা থেকে নতুন নতুন ক্রেতা পাই আমরা।
প্লাস্টিক মেলা ১৯৮৯ সাল থেকে বিপিজিএমইএ এবং বিসিক যৌথভাবে আয়োজিত হয়ে আসছে। তবে শুরুতে স্বল্প পরিসরে ছিল। সবশেষ ১৪তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে। তবে কোভিডের কারণে গত তিন বছর এ মেলা ছিল বন্ধ। এ বছর বসেছে ১৫তম আসর।
এনএইচ/জেডএইচ/এএসএম