প্রাথমিকের অর্ধেক শিক্ষার্থীই মৌলিক দক্ষতায় পিছিয়ে: ববি হাজ্জাজ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী মৌলিক দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন (এনএসএ) অনুযায়ী- প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী মৌলিক দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে আছে। কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে আমার মনে হয়েছে, দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক স্তরের চার থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মৌলিক শেখার ভিত্তি দৃঢ় করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো- অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস থ্রিতে পড়লেও তারা সেই শ্রেণির উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। পিছিয়েপড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সরকার বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) পিছিয়েপড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘রেমিডিয়াল শিক্ষা: কর্ম-অভিজ্ঞতা ও আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে গণসাক্ষরতা অভিযান এ সভার আয়োজন করে।
গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে বা ক্লাসে তাল মেলাতে পারছে না, তাদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করা হবে। লার্নিং সার্কেল, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, অভিভাবক অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কনটেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি ইশতেহারেই শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, দ্য লার্নিং নেশন গ্রন্থে ববি হাজ্জাজ দেশের শিক্ষা সংস্কারের একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। বইটিতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের নানা দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সেভ দ্য চিলড্রেনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এএএইচ/ইএ