বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অভিন্ন লিখিত পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৬ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য শিক্ষক নির্বাচনে অভ্ন্নি লিখিত পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দিয়েছেন উপাচার্যরা। একইসঙ্গে শিক্ষকদের যোগ্যতাভিত্তিক পদমর্যাদা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালুরও সুপারিশ করেন তারা।

বুধবার শিক্ষা মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি/পদোন্নয়ন বিষয়ক এক কর্মশালায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা এসব পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ইউজিসি’র সদস্য আখতারুজ্জামান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী। কর্মশালায় ৪০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আপগ্রেডেশন বিষয়ে কোনো তারতম্য রাখা যাবে না। যোগত্যাভিত্তিতে তাদের গ্রেড বা পদমর্যাদা প্রদান করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা বেতন-ভাতা বাড়াতে দাবি করছি না, আমাদের সম্মানের স্থানটি নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ২০২০ সাল থেকে অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ-পদোন্নতি কার্যকরের আহ্বান জানান তিনি।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, অভিন্ন নীতিমালায় বাস্তবায়ন করতে হলে অভিন্ন লিখিত নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষক নির্বাচন করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে প্রার্থীকে ক্লাস নেয়ার দক্ষতার বিষয়েও পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। সে সব শিক্ষকরা পাঠ্যপুস্তক লিখেন ও গবেষণা কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এন্ট্রি লেভেলে পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। নতুবা এটি নিয়ে নতুন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা বলেন, বিজ্ঞান ও মানবিক সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে জিপিএ- ৩ দশমিক ৫ চাওয়া হয়েছে। এটি সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি যোগ্য শিক্ষক নিয়োগে পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর দাবি জানান।

অন্যদিকে, উপস্থিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের কেউ কেউ আবার অভিন্ন নিয়োগ নীতিমালার সমালোচনাও করেছেন। তারা বলেন, এটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত চিন্তার স্থানটি হারিয়ে যাবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হবে। জেলা পর্যায়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভালো মানের শিক্ষক নিয়োগ দিতে জটিলতা সৃষ্টি হবে। অভিন্ন নিয়োগ নীতিমালার কারণে উচ্চশিক্ষাকে একটি স্থানে আবদ্ধ হয়ে পরবে। যেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি অভিন্ন পদ্ধতিতে করা সম্ভব হয়নি, সেখানে অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ বাস্তবায়নে নতুন সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করা হলেও ইউজিসি থেকে তা ইচ্ছামত পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে কিছু বিষয়ে সংশোধন জরুরি।

শিক্ষকদের গ্রেডেশনের বিষয়ে সংশোধন আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষকদের গ্রেড দিতে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি অভিন্ন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষকদের মর্যাদা অনুযায়ী ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিন্ন নিয়োগ নীতিমালা তৈরির আহ্বান জানান এই শিক্ষক নেতা।

ইউজিসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ও যোগ্যপ্রার্থীদের বাতিল করে কর্তৃপক্ষের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করা হচ্ছে। এসব কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন নীতিমালা করতে চাই। দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে উচ্চ পর্যায়ে নিতেই আমারা এমন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের বাস্তবমুখী পরামর্শগুলোকে আমলে নিয়ে তা বিবেচনা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষক নিয়োগে নানামুখী জটিলতা কাটিয়ে একটি সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন নিয়োগ-পদোন্নতি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষকদের পরামর্শগুলোকে বিচার বিশ্লেষণ করে তারপর এটি কার্যকর করা হবে।

এমএইচএম/জেএইচ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :