যে ঠাকুরগাঁওয়ে বসে গান করছে, তার কাছে বাজেটের কতটুকু যাচ্ছে

মইনুল ইসলাম
মইনুল ইসলাম মইনুল ইসলাম , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১৭ এএম, ০২ জানুয়ারি ২০২৬
শতাব্দী ওয়াদুদ। ছবি: ফেসবুক

নতুন দীর্ঘ ধারাবাহিক ‘পরস্পর’-এ অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ। আগামীকাল শনিবার সেটি দেখানো হবে দীপ্ত টেলিভিশনে। সম্প্রতি সংস্কৃতি অঙ্গন, সিনেমাশিল্প, সংস্কৃতির বাজেটসহ নানান বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে।

জাগো নিউজ: আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের যে অবস্থা, সেটাকে কি ‘অধঃপতন’ বলা যায়?

শতাব্দী ওয়াদুদ: সরাসরি ‘পতন’ না বলে একে একটি ‘খারাপ সময়’ হিসেবে দেখছি। বিশ্বায়নের এই যুগে ইন্টারনেটে ভালো জিনিসের পাশাপাশি সস্তা বা কুরুচিপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে, যা একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। তবে গত ১০ বছরে ওটিটি আসার ফলে প্রযুক্তিগত দিক থেকে, যেমন ক্যামেরা, কস্টিউম, মেকআপ এবং লাইটিংয়ের ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।

জাগো নিউজ: সিনেমাশিল্পের যে অবস্থা, তাকেও কি পতন বলবেন না?

শতাব্দী ওয়াদুদ: গত ১০-১৫ বছরে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা। বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক চর্চাগুলো অতিমাত্রায় রাজধানীকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। যানজট ও যাতায়াতের সমস্যার কারণে মানুষ দীর্ঘ সময় ব্যয় করে নাটক বা সিনেমা দেখতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। সংস্কৃতি খাতের জন্য রাষ্ট্রের বরাদ্দ অত্যন্ত কম। হলিউড বা বলিউডের মতো কাজের মান প্রত্যাশা করা হলেও বাজেট সেই তুলনায় খুবই নগণ্য, যা এই শিল্পের সাথে জড়িত পরিবারগুলোর জন্য প্রতিকূলতা তৈরি করছে। ফলে সিনেমার অবস্থা খারাপ বলা যেতে পারে, তবে আমরা আশা হারাইনি।

যে ঠাকুরগাঁওয়ে বসে গান করছে, তার কাছে বাজেটের কতটুকু যাচ্ছে

জাগো নিউজ: এসব সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কী বলে মনে করেন?

শতাব্দী ওয়াদুদ: এসব সংকট থেকে উত্তরণের কোনো তাৎক্ষণিক বা ম্যাজিক ফর্মুলা নেই। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যার জন্য রাষ্ট্রের একটি সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী সাংস্কৃতিক নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ এবং শিল্পীদের কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের ছোট্ট একটা দেশ, কিন্তু এত ভ্যারাইটি যে … আমাদের জারি-সারি-ভাটিয়ালি-কবিগান কত কিছু আছে। এই সমস্ত বিষয়গুলোকে একোমডেট করার জন্য, আমি যেটা বললাম যে, পলিসি দরকার, একটা বাজেট দরকার, সেই জিনিসগুলোয় আমাদের সমন্বয় হয় না। আমাদের হয়তো বাজেটটা দেয়, যেটা দেখা যায় শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক, ম্যাক্সিমাম আমরা পাচ্ছি, আমরা যারা রাজধানীকেন্দ্রিক চর্চা করছি। কিন্তু যে লোকটা ঠাকুরগায়ে বসে গান করছে, তার জন্য কতটুকু যাচ্ছে বা তার সাথে পুরো ব্যাপারটা জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাথে মিলিয়ে কি সমন্বয়টা প্রপারলি হচ্ছে কি না, এই বিষয়গুলোর প্রোপার মনিটরিং দরকার।

আমাদের আসলে বৃহৎ প্ল্যান দরকার। এটা শুধু, আমি আসলাম, আমি দুবছর থাকব, পাঁচ বছর থাকব, এ রকম না। এখন যে বাচ্চাগুলো গান গাইছে, ১৫ বছর পর ওই বাচ্চাগুলোকে আমি কোথায় দেখতেছি, এটা রাষ্ট্রেরও ভাবতে হবে। আমি শিল্পী, শুধু আমি স্যাক্রিফাইস করব, তা তো না, আমারই সব দায় তা না। আপনি যে বলছেন, উত্তরণের পথ কি, আপনারও একটা দায় আছে, আমারও দায় আছে, যেহেতু আমরা এই একই সেক্টরে কাজ করি। রাষ্ট্রেরও দায় আছে। দেখছি যে, সবসময় শুধু আমরাই ভিক্টিম, আমরাই ভিক্টিম বলে যাচ্ছি জিকিরের মতো। একটা তো ব্যবস্থা করতে হবে, রাষ্ট্রের অনেক দায়িত্ব নিতে হবে।

জাগো নিউজ: সিনেমার অনেক ছোট ছোট কাজ এখনও আমরা ভালোভাবে পারি না। ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়ালো না কেন বলে মনে করেন? ইনস্টিটিউটের কি প্রয়োজনীয়তা নেই? এফডিসির কি কোনো ভূমিকা নেওয়ার ছিল?

শতাব্দী ওয়াদুদ: এখন ওটিটি বা বিশ্বায়নের যুগে আছি আমরা। আপনি যদি বাইরের দেশের সাথে ফাইট করতে যান, আপনি পারবেন না। শুধু পাফ করলাম, মেকআপ হয়ে গেল, ব্যাপারটা তো তা না। গেটআপ-সেটআপের ব্যাপার আছে। আর সেসব জায়গা থেকে আমার মনে হয়েছে যে, এফডিসি যেটা, ওরা তো ইন্ডাস্ট্রি। একদম ওদের কাছ থেকে ইনিশিয়েটিভটা আসা উচিত ছিল। আমার মেকআপ ইনস্টিটিউশন, আমার কস্টিউমের লোক, আমার এই লোক, আমার সেই লোক, এই দায়িত্বটা ওদের নেওয়া দরকার ছিল। তাহলে ব্যাপারটা অনেক আরামদায়ক হতো। কারণ আমাদের টেলিভিশনকে আমরা ইন্ডাস্ট্রি বলছি, কিন্তু দেখেন সব কেমন স্ক্যাটারড। আমাদের কি কোনো জায়গা আছে, যেখানে আমরা গিয়ে বসতে পারবো। এফডিসির যেমন একটা জায়গা আছে, অফিস আছে। আমাদের কিন্তু নাই। বিভিন্ন প্রাইভেট চ্যানেল আছে, বাংলাদেশ টেলিভিশন আছে, সেটা কিন্তু আমাদের জন্য উন্মুক্ত না।

যে ঠাকুরগাঁওয়ে বসে গান করছে, তার কাছে বাজেটের কতটুকু যাচ্ছে

জাগো নিউজ: নতুন বছরে দর্শকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

শতাব্দী ওয়াদুদ: অনেক ভালো ভালো কাজের প্রিপারেশন নিয়েছি বা করেছি। সেগুলো এ বছর রিলিজ হবে। সবাই আমাদের কাজগুলো দেখতে আসবেন। আপনারা দেখে যদি ভালো বলেন, সেটা আমার জন্য ইন্সপায়ারিং হবে। যদি খারাপ বলেন, সেটাও এক ধরনের ইন্সপিরেশন। কারণ আমি তখন নিজেকে ঠিকঠাক করে নিতে পারবো বা আমার সহকর্মীরা ঠিকঠাক করে নিতে পারবেন।

জাগো নিউজ: আপনি নতুন ধারাবাহিক ‘পরম্পরা’-এ কাজ করলেন। নাটকটা নিয়ে কিছু বলুন।

শতাব্দী ওয়াদুদ: ‘পরম্পরা’ একটি পারিবারিক নাটক। একটি পরিবারের বিভিন্ন ধরনের ক্রাইসিস এবং মধ্যবিত্ত জীবনের কিছু মজার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। নাটকের মূল বিষয়বস্তু হলো এক প্রজন্মের ঐতিহ্য বা লিগেসি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যা করতে গিয়ে সময়ের পরিবর্তনের কারণে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়।

এমআই/আরএমডি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।