মডেলিংয়ের রাজপুত্র নোবেল, প্রজন্মের পর প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
নব্বই দশকের শুরুতে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। সময় গড়িয়েছে, বদলেছে ট্রেন্ড, পাল্টেছে প্রজন্ম-তবু সৌন্দর্য, আকর্ষণীয় ফিগার, ভুবনভোলানো হাসি আর চুম্বকের মতো ব্যক্তিত্ব দিয়ে আজও সমানভাবে মুগ্ধ করে চলেছেন নোবেল। দেশের মডেলিং জগতের ইতিহাসে যিনি এক অনন্য অধ্যায়-আদিল হোসেন নোবেল, যাকে অনেকেই ডাকেন মডেলিংয়ের রাজপুত্র।
আজ (২০ জানুয়ারি) অভিনেতা ও মডেল নোবেলের জন্মদিন। জীবনের ৫৭ বছরে পা রেখেছেন এ তারকা। শুধু একটি সময়ের নায়ক নন, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার নাম নোবেল।
নোবেলের জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে। সেখানেই তার পড়াশোনা। ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করার পাশাপাশি সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এবং জেভিয়ার লেবার রিলেশনস ইনস্টিটিউট থেকে ‘কি অ্যাকাউন্টস ম্যানেজমেন্ট’র ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

তবে শুরুটা সহজ ছিল না। এমবিএ শেষ করে ঢাকায় এসে বড় বোনের পরামর্শে ফ্যাশন জগতের সঙ্গে যুক্ত হন নোবেল। ১৯৯১ সালে বরেণ্য নির্মাতা আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় একটি কোমল পানীয়ের বিজ্ঞাপনে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেও সেটি আর প্রচার হয়নি। স্বপ্নভঙ্গের সেই সময়ে আফজাল হোসেনই তাকে সাহস জুগিয়েছিলেন- ‘সুযোগ আবার আসবে’।
সেই সুযোগ আবার তার হাত ধরেই আসে। আজাদ বলপেনের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান নোবেল। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

দিনে দিনে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের মডেলিং জগতের একচ্ছত্র অধিপতি। এককভাবে যেমন জনপ্রিয় হয়েছেন, তেমনি জুটি বেঁধেও দেখিয়েছেন সাফল্যের দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে মৌর সঙ্গে গড়া মৌ-নোবেল জুটিকে আজও দেশের মডেলিং জগতের সবচেয়ে সুপারহিট জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কেয়ারসহ নানা পণ্যের বিজ্ঞাপনে এই জুটি তুমুল দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। তানিয়া, সুইটি, তিশারার মতো মডেলরাও নোবেলের বিপরীতে আলো ছড়িয়েছেন।
‘তোমার জন্য মরতে পারি, ও সুন্দরী’, ‘নিশিথে কল কইরো আমার ফোনে’, ‘রুপসীর রেশমীর চুলে’র মতো জিঙ্গেলভিত্তিক বিজ্ঞাপনগুলো নোবেলকে এনে দেয় আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। মডেলিংয়ের শীর্ষ সময়ে দাঁড়িয়েই তিনি অভিনয়ে আসেন টিভি নাটকে। সেখানেও তার সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্যাকেজ নাটকের যে জয়যাত্রা আজও চলছে, তার প্রথম নায়ক ছিলেন নোবেল। ১৯৯৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বিটিভিতে প্রচারিত আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত ‘প্রাচীর পেরিয়ে’ নাটকে মাসুদ রানা চরিত্রে অভিনয় করে ইতিহাস গড়েন তিনি। বিপাশা হায়াতের সঙ্গে সেই নাটক আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এরপর ‘কুসুম কাঁটা’, ‘ছোট ছোট ঢেউ’, ‘তাহারা’, ‘শেষের কবিতার পরের কবিতা’, ‘নিঃসঙ্গ রাধাচূড়া’, ‘হাউজ হাজব্যান্ড’সহ বহু নাটকে অভিনয় করে খ্যাতি পান নোবেল।
অসংখ্যবার সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও নোবেল কখনো বড়পর্দায় কাজ করেননি। এমনকি যে ছবি দিয়ে ইমন থেকে সালমান শাহ-সেই ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবু সালমান শাহ ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
মডেলিং ও অভিনয়ের পাশাপাশি কর্পোরেট জীবনেও সমান সফল নোবেল। নব্বই দশক থেকেই তিনি একজন পেশাদার কর্পোরেট কর্মকর্তা। চাকরিজীবী হয়েও শোবিজে দীর্ঘদিন জনপ্রিয়তা ধরে রাখা-এটাই নোবেলের অনন্যতা।

ব্যক্তিজীবনে নোবেল অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। নিয়মিত ব্যায়াম, জিম, সুইমিং, সময়মতো খাওয়া ও কাজ-এই রুটিনই তার চিরতরুণ থাকার রহস্য। স্ত্রী শম্পা, এক কন্যা ও এক পুত্রকে ঘিরে তার সংসার জীবনও আনন্দমুখর।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রে মারুফের বাসায় নিজেদের সেই গানে নাচলেন অমিত-শাবনূর
শহীদ জিয়াউর রহমানকে যে গান শুনিয়েছিলেন কনকচাঁপা
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবি নিয়ে মুখ খুললেন হাসান মাসুদ
নব্বই দশকের স্মৃতি থেকে আজকের নতুন প্রজন্ম-সবাইকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন নোবেল। মডেলিংয়ের রাজপুত্র হিসেবে তিনি শুধু একটি সময়ের আইকন নন, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের অনুপ্রেরণার নাম।
এমএমএফ/জেআইএম