চাষী নজরুল ইসলাম আইসিইউতে
বেশ কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ দেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম। হাসপাতাল আর বাসা, এভাবেই কাটছে তাঁর গত কয়েক মাস। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিন দশেক আগে আবারও তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ল্যাবএইড হাসপাতালের কেবিনেই এতদিন তাঁর চিকিৎসাসেবা চলছিল। হঠাৎ করেই বুধবার রাতে চাষী নজরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। আর এর পরপরই দ্রুত তাঁকে কেবিন থেকে আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে) নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান চিকিৎসক সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।
চিকিৎসক আকরাম হোসেন বলেন, গত বছরের মে মাস থেকেই চাষী নজরুল ইসলাম আমার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। তিনি নানা রোগে ভুগছেন। কয়েকবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর কিছুটা উন্নতি দেখা দেওয়ায় তিনি বাসায় চলে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিন দশেক আগে আবারও তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বুধবার রাতে হঠাৎ করেই তাঁর শ্বাসকষ্ট মারাত্মক বেড়ে যায়।
চিকিৎসক আকরাম হোসেন আরও বলেন, চিকিৎসাসেবার সুবিধার্থে দ্রুত তাঁকে কেবিন থেকে আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আইসিইউতে শুরুতে যে অবস্থা ছিল, বৃহস্পতিবার বিকেলে তার কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। তবে তিনি পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন। এরই মধ্যে অবশ্য তাঁকে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়েছে।
চাষী নজরুল ইসলামের ছোট মেয়ে আন্নী ইসলাম তার বাবার বর্তমান অবস্থার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ভালোবাসা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বাবার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।’
চাষী নজরুল ইসলাম ১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর শ্রীনগর থানার সমষপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক পেয়েছেন গুণী এ চলচ্চিত্র নির্মাতা। স্বাধীনতার পর প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ছবি ওরা ১১ জন পরিচালনা করে দারুণ প্রশংসিত হন তিনি। তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ওরা ১১ জন, সংগ্রাম, দেবদাস, শুভদা, পদ্মা মেঘনা যমুনা, হাঙর নদী গ্রেনেড, হাছন রাজা, মেঘের পরে মেঘ, শাস্তি, সুভা ইত্যাদি।