মিশা-জায়েদ কমিটির মেয়াদ শেষ, তফসিল এড়িয়ে গেলেন মিশা

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩২ পিএম, ২৫ মে ২০১৯

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বি-বার্ষিক মেয়াদে (২০১৭-১৯) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৭ সালের ৫ মে। নির্বাচনের ৬ দিন পরে ১২ মে বিকেল ৫টায় এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

সেই হিসেবে এই কমিটির বয়স দুই বছর অতিক্রম করেছে আগেই। কিছু সমস্যার কারণে ২০১৭ সালের ২৫ মে থেকে শিল্পী সমিতির নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়। আজ শনিবারই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৪ সালে। ২০১৭ সালে ১৪তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেবার তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় আসে মিশা-জায়েদ প্যানেল। আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটির শেষ কার্যদিবস আজ। ২৬ মে থেকেই নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতীক্ষা শুরু হবে।

কবে আসবে তফসিলের ঘোষণা? এ বিষয়ে জানতেই শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো তিনি এড়িয়ে যান বিষয়টি।

ভালোভাবে কথা বলা শুরু করলেও প্রসঙ্গ শুনেই তিনি কথার সুর পাল্টে ফেলে বলেন, ‘এখন ব্যস্ত আছি। আপনি কোথায় কাজ করেন?’ পরিচয় পাওয়ার পর এই খল অভিনেতা বলেন, ‘ফোন করার আগে মেসেজ পাঠাবেন, মেসেজ না পাঠিয়ে ফোন করেন কেন?’ পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন মিশা। পরে আর তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

সভাপতির এমনভাবে এড়িয়ে যাওয়া নতুন তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে শিল্পী সমিতির কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না সেটা জানা যায়নি।

তবে গত সপ্তাহেই শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান নির্বাচন ও তফসিল প্রসঙ্গে জাগো নিউজকে বলেন, ‘কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৫ মে। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে সভাপতি যেদিন ইচ্ছা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন। সঠিক সময়ে সবই হবে। দুশ্চিন্তার কিছু নেই।’

গত নির্বাচনে শিল্পী সমিতির নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছিলেন নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর। শিল্পী সমিতির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘কবে তফসিল ঘোষণা করবে এটা শিল্পী সমিতির সিদ্ধান্ত। গতবার নির্বাচন কমিশনে ছিলাম।

এবার এখনো শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। তাই এ নিয়ে কিছু বলতেও পারবো না।’

বর্তমান কমিটির নীরবতা নির্বাচন নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের। তারা ৫ মে পার হওয়ার পর থেকেই আলোচনায় আনছেন কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন নির্বাচনের ঘোষণা কেন আসেনি?

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৫ মে অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী সমিতির নির্বাচন। সেখানে মিশা-জায়েদ প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হয়। কিন্তু সেই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেননি কয়েকজন প্রার্থী। ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগে মামলা করেন ওমর সানী-অমিত হাসান প্যানেল থেকে কার্যকরী সদস্য পদে হেরে যাওয়া প্রার্থী রমিজ উদ্দিন।

তার মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ১১ মে শিল্পী সমিতির এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। তারপর ১২ মে নতুন কমিটি শপথ গ্রহণ করে।

এদিকে আগামী নির্বাচনে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। এবার বড় কিছু পদে নতুন মুখও দেখা যেতে পারে। ফিরে আসতে পারেন সাবেক সভাপতি শাকিব খানও। শোনা যাচ্ছে তিনি ডি এ তায়েবকে সাধারণ সম্পাদক করে প্যানেল নিয়ে হাজির হবেন।

চলতি কমিটির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান এবারও সাধারণ সম্পাদক পদেই নির্বাচন করবেন বলেই জানা গেছে। তবে তার সঙ্গে সভাপতি হিসেবে মিশা সওদাগরকে নাও দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে আরেকটি প্যানেল নিয়ে প্রতিযোগিতায় থাকতে পারেন ওমর সানী ও অমিত হাসান প্যানেল।

নতুন একটি প্যানেল দেখা যেতে পারে চলচ্চিত্রের তরুণ শিল্পীদের নিয়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই প্যানেলটি তৈরি হলে সেটি অন্য প্যানেলগুলোর জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এমএবি/এলএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]