দক্ষিণ গাজা খালি করার নির্দেশ ইসরায়েলের
অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো গাজার দক্ষিণাঞ্চলে বসবাসকারী ডজনখানেক ফিলিস্তিনি পরিবারকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) স্থানীয় বাসিন্দা ও হামাস সূত্র জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সম্প্রসারণ করছে।
খান ইউনিসের পূর্বে বানি সুহাইলা এলাকার বাসিন্দারা জানান, সোমবার আল-রেকেব মহল্লার তাঁবুতে বসবাসরত পরিবারগুলোর ওপর লিফলেট ফেলা হয়।
আরবি, হিব্রু ও ইংরেজি ভাষায় লেখা ওই লিফলেটগুলোতে বলা হয়—জরুরি বার্তা। এলাকাটি আইডিএফের নিয়ন্ত্রণে। আপনাদের অবিলম্বে এলাকা ত্যাগ করতে হবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বানি সুহাইলা শহরের আল-রেকেব এলাকায় এসব লিফলেট ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের আগে টানা দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইসরায়েল এমন লিফলেট ফেলতো, যার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অভিযান বা বোমাবর্ষণ চালানো হতো। এতে বহু পরিবারকে একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হামাসের এক সূত্র জানান, যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম এমন লিফলেট ফেলা হলো। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের বাইরে এখনো অগ্রগতি হয়নি। এই ধাপে বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধ রয়েছে, ইসরায়েল গাজার অর্ধেকেরও কম এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে এবং এর বিনিময়ে হামাস জিম্মিদের মুক্তি দিয়েছে, আর ইসরায়েল মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তিদের।
গাজার ২০ লাখের বেশি মানুষের প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী এখন অঞ্চলটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। তারা মূলত অস্থায়ী তাঁবু ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছে, যেখানে হামাস-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে সীমিত পরিসরে জীবনযাত্রা আবার শুরু হয়েছে।
ইসরায়েল ও হামাস একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে এবং পরবর্তী ধাপের আরও জটিল বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে।
বানি সুহাইলা এলাকার বাসিন্দা মাহমুদ বলেন, উচ্ছেদের এই নির্দেশে অন্তত ৭০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবার তাঁবু ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে বসবাস করছিল।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএস