ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে অনুরোধ রেজা পাহলভির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:১১ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
রেজা শাহ পাহলভি/ ছবি: প্রেসটিভি

ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশান্তরিত রেজা শাহ পাহলভি। ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের তথাকথিত ‘শাসন পরিবর্তন’ (রেজিম চেঞ্জ) পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে অনুরোধ করেছেন রেজা পাহলভি।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হবার পর তার পিতা শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাহলভি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা অন্য যে কোনো পক্ষের মাধ্যমে চালানো হোক না কেন তা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। এটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হতে পারে, ইসরায়েলের হামলা হতে পারে, কিংবা অন্য কারও -তাতে আমার কিছু যায় আসে না।’

বিদেশি আগ্রাসনের পক্ষে সাফাই গেয়ে পাহলভি দাবি করেন, একটি মাত্র ‘চূড়ান্ত হামলাই’ পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে এবং বর্তমান ইরানি সরকারকে উৎখাত করতে পারে। ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করতে হলে দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সব প্রতিষ্ঠানকেই লক্ষ্যবস্তু করতে হবে।

গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে তীব্র হামলা চালিয়েও ইরানকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই যুদ্ধে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে অধিকৃত ভূখণ্ডে এবং কাতারে অবস্থিত একটি বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানে যা তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ও দৃঢ়তা স্পষ্ট করেছে।

উল্লেখ্য, তীব্র মুদ্রাস্ফীতির কারণে বর্তমানে ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে তা শুরু হয়েছে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর। সম্প্রতি ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড অবমূল্যায়ন ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া দেশটির গ্রান্ড বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করে, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে ডলার–রিয়াল বিনিময় হার ১ ডলারে ১ লাখ ৪৫ হাজার রিয়ালে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারের বেশি মানুষ নিহত হবার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। এরই মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ইরানের অভ্যন্তরে আন্দোলনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। বিক্ষোভকে উসকে দিতে এসব দেশের গোয়েন্দা সংস্থা হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে।

এছাড়া ইরানি কর্তৃপক্ষ বরাবরই দাবি করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ বিক্ষোভে অস্ত্র ও অর্থের যোগান দিয়েছে।

কে এম 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।