ভারতে সুফি মাজার গুঁড়িয়ে দিলো হিন্দুত্ববাদীরা, গ্রেফতার শূন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩০ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ভারতে সুফি মাজার গুঁড়িয়ে দিলো হিন্দুত্ববাদীরা/ ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ভারতের উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে অষ্টাদশ শতকের সুফি দার্শনিক ও কবি বাবা বুল্লে শাহের মাজার গুঁড়িয়ে দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই।

জানা যায়, গত শনিবার মুসৌরির উইনবার্গ–অ্যালেন এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থিত ওই মাজারে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা হাতুড়ি ও লোহার রড ব্যবহার করে স্থাপনাটি ভাঙচুর করে। এ সময় মাজারের ভেতরে রাখা ধর্মীয় বইও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ঘটনায় হরিওম, শিবায়ুন ও শ্রদ্ধা নামে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীগত সম্প্রীতি বিনষ্ট, জনশান্তি ব্যাহত এবং ধর্ম অবমাননার উদ্দেশ্যে উপাসনালয় ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন>>
ভারতে ‘অবৈধ মাদরাসা’ অভিযোগে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মুসলিম যুবকের স্কুল
ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রায় ৩০০ মসজিদ-মাদরাসা গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন
মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল ভারতে!

ভারতে মুসলিমরাই কেন বারবার বুলডোজার নীতির শিকার?

মাজার ভাঙচুরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান পিংকি চৌধুরী বলেন, তিনি সংগঠনটির উত্তরাখণ্ড ইউনিটকে ‘সালাম’ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, ‘আমার হিন্দু রক্ষা দল আজ বুল্লে শাহকে, যিনি ৭০ বছর ধরে দেবভূমিতে ছিলেন, পাকিস্তানে ফিরিয়ে দিয়েছে।’ এখানে ‘দেবভূমি’ বলতে উত্তরাখণ্ডকে বোঝানো হয়েছে।

দেহরাদুনের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার অজয় সিং এএনআইকে জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, বাবা বুল্লে শাহ কমিটির সভাপতি রাজত আগরওয়াল অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনা ‘শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা নয়, বরং মুসৌরির শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র।’

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এর আগেও মাজারটির সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে দাবি করেছিল, এটি অবৈধভাবে সরকারি জমিতে নির্মিত।

তবে কমিটির পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। রাজত আগরওয়ালের দাবি, মাজারটি একটি বেসরকারি স্কুলের জমিতে অবস্থিত এবং বহু বছর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতিতেই এটি স্থাপন করা হয়। প্রশাসনিক তদন্তেও কোনো দখলদারির প্রমাণ মেলেনি।

সুফি কবি ও চিন্তাবিদ বাবা বুল্লে শাহ ১৭৫৭ সালে মারা যান। তার মূল কবর পাকিস্তানের কাসুরে অবস্থিত।

সূত্র: স্ক্রল
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।