‘হি ইজ নট মাই টাইপ’ বলার পর কেন তার সঙ্গে প্রেম হয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:০৪ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সঙ্গী কেমন হবেন তা নিয়ে প্রত্যেক মানুষের মনেই আগে থেকে কিছুটা তৈরি থাকে। কারো পছন্দ নির্দিষ্ট চেহারা, কারো নির্দিষ্ট পেশা, আবার কেউ খোঁজেন বিশেষ ধরনের ব্যক্তিত্ব। তাই প্রথম দেখায় অনেকেই সহজেই বলে ফেলেন, ‘হি ইজ নট মাই টাইপ।’ কারণ মানুষটি হয়তো আমাদের কল্পনায় আঁকা ছবির সঙ্গে মেলে না।

কিন্তু আশ্চর্যভাবে, সময়ের সঙ্গে সেই মানুষটিকেই ঘিরে তৈরি হয় গভীর টান, প্রেম, এমনকি সংসারও। কেন এমন হয়?

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আমাদের টাইপ ধারণাটি প্রায়ই সামাজিক প্রভাব, সিনেমা, পারিবারিক প্রত্যাশা কিংবা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি। কিন্তু বাস্তব সম্পর্ক গড়ে ওঠে ভিন্ন এক জায়গায় মানসিক নিরাপত্তা, বোঝাপড়া এবং সম্মানের ভিত্তিতে।

fgtt

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ জন গটম্যান দীর্ঘদিনের গবেষণায় দেখিয়েছেন, টেকসই দাম্পত্যের মূল চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আবেগগত সাড়া দেওয়া এবং দ্বন্দ্ব সামলানোর দক্ষতা।
অর্থাৎ প্রথমে যিনি আমাদের টাইপ নন বলে মনে হয়, তিনিই হয়তো আবেগগতভাবে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠেন।

এছাড়া মনোবিজ্ঞানের একটি পরিচিত ধারণা হলো ‘মিয়ার এক্সপোজার ইফেক্ট’। সামাজিক মনোবিজ্ঞানী রবার্ট জাজোঙ্ক -এর গবেষণা বলছে, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়লে তার প্রতি স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ যাকে প্রথমে বিশেষ আকর্ষণীয় মনে হয়নি, তার সঙ্গেই যদি ধীরে ধীরে সময় কাটে, কথা হয়, বোঝাপড়া তৈরি হয় তাহলে সম্পর্কের ভিত মজবুত হতে শুরু করে।

আমাদের ‘পছন্দ’ বা ‘টাইপ’ ধারণাটি হঠাৎ করে তৈরি হয় না। এটি গড়ে ওঠে দৈনন্দিন অভ্যাস, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক প্রভাব এবং অতীত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে। আমরা যেসব মানুষ, আচরণ বা সম্পর্কের ধরন ছোটবেলা থেকে দেখে বড় হই, সেগুলোই ধীরে ধীরে আমাদের কাছে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়।
অনেক সময় পরিচিত পরিবেশের বাইরে যেতে না চাওয়াও একটি বড় কারণ। মানুষ স্বভাবতই নিরাপত্তা খোঁজে।

ert

সেই নিরাপত্তা সব সময় সুখকর না-ও হতে পারে, তবু পরিচিত বলে সেটিই স্বস্তিদায়ক লাগে। ছোটবেলার অভিজ্ঞতা, পুরোনো মানসিক আঘাত বা অপূর্ণ চাহিদা থেকে আমরা অজান্তেই মনে একটি ‘পছন্দের তালিকা’ তৈরি করে নিই।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আবেগগত পরিপক্বতা। তরুণ বয়সে আমরা প্রায়ই বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য চেহারা, স্টাইল, জনপ্রিয়তাগুলোতে অগ্রাধিকার দিই। কিন্তু জীবনের অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্রাধিকার বদলে যায়। তখন দায়িত্বশীলতা, সহানুভূতি, স্থিরতার মতো গুণ বেশি মূল্য পায়। ফলে যে মানুষটিকে একসময় ‘আমার টাইপ নয়’ মনে হয়েছিল, তাকেই পরিণত বয়সে আদর্শ সঙ্গী বলে মনে হতে পারে।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘কমপ্লিমেন্টারি পার্সোনালিটি’ বা পরিপূরক স্বভাবও বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সময় আমরা অজান্তেই এমন কাউকে বেছে নিই, যার গুণাবলি আমাদের ঘাটতি পূরণ করে। কেউ যদি শান্ত স্বভাবের হন, তিনি হয়তো উচ্ছ্বল কাউকে ভারসাম্য দিতে পারেন। এই পার্থক্যই কখনো কখনো সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

rtyu

সঙ্গী বাছাইয়ের সময় নিজের পছন্দ আর মূল্যবোধের মধ্যে পার্থক্যটা বোঝা খুব জরুরি। কারো চেহারা, স্টাইল বা ব্যক্তিত্ব প্রথম দেখায় আকর্ষণীয় লাগতেই পারে। কিন্তু শুধু বাহ্যিক গুণ দেখে একজন মানুষের চরিত্র, দায়িত্ববোধ বা সম্পর্কের প্রতি তার মনোভাব বোঝা যায় না।

সম্পর্কের শুরুতেই নিজের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা উচিত এই মানুষটির প্রতি আকর্ষণের কারণে কি আমি আমার নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে কোনো আপস করছি? যদি নিজের সীমা, বিশ্বাস বা স্বস্তির জায়গা বারবার ছাড়তে হয়, তবে সেটি সতর্ক হওয়ার সংকেত।

একটি সুস্থ সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিক নিরাপত্তা। যেখানে নিজের কথা বলতে ভয় লাগে না, যেখানে সম্মান আছে, আস্থা আছে, একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা আছে-সেই সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ী হয়। জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার সময় তাই বাহ্যিক আকর্ষণের চেয়ে এই গুণগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

প্রেম সব সময় পূর্বনির্ধারিত ছকে চলে না। হৃদয়ের অনুভূতি যুক্তির তালিকা মেনে আসে না। ‘টাইপ’ অনেক সময় একটি কল্পিত কাঠামো মানুষটি আমাদের বাস্তব মানুষটি সেই কাঠামোর বাইরে গিয়েও গভীরভাবে স্পর্শ করতে পারে।

সূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড, গটম্যান, জে. (১৯৯৯) দ্য সেভেন প্রিন্সিপলস ফর মেকিং ম্যারেজ ওয়ার্ক, জাজন, আর. বি (১৯৬৮) অ্যাটিটিউডিনাল ইফেক্টস অফ মিয়ার এক্সপোজার, জার্নাল অব পার্সোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি

আরও পড়ুন:
সঙ্গীর জন্মদিন ভুলে গেছেন? শেষ মুহূর্তে মন জয় করার উপায় 
যে কারণে মানুষ সম্পর্কে জড়ায়

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।