প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে নেপালের জনপ্রিয় র‍্যাপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৩ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বালেন্দ্র শাহ/ ছবি: এএফপি (ফাইল)

সেপ্টেম্বর নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া ঐতিহাসিক আন্দোলনে ৭৭ জন নিহত হওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই সময় ৩৫ বছর বয়সী র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষিপ্ত এক বার্তা দেন।

জনপ্রিয় নাম ‘ব্যালেন’ হিসেবে পরিচিত শাহ লেখেন, প্রিয় জেন জেড, তোমাদের হত্যাকারীর পদত্যাগ এসেছে। এখন দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে তোমাদের প্রজন্মকেই। প্রস্তুত থাকো।

২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করা এই সংগীতশিল্পী ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনের পর নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন।

নেপালে নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপ না থাকলেও চারজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় গণমাধ্যম তাকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছেন। এতে দেশটির প্রচলিত রাজনৈতিক অভিজাতদের প্রভাব কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ বিপিন অধিকারী বলেন, ব্যালেন শাহ এতটাই জনপ্রিয় যে কাঠমান্ডুগামী বাসগুলোতে এখন লেখা থাকে—‘ব্যালেনের শহরের পথে’।

ক্ষমতায় যেতে পারলে এটি হবে তার নাটকীয় উত্থানের আরেক ধাপ। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনামূলক র‍্যাপ গান দিয়ে জনপরিচিতি পাওয়া শাহ জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে উচ্চ রাজনৈতিক পদে পৌঁছানোর পথে এগিয়েছেন।

এটি নেপালের রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। চীন ও ভারতের মাঝখানে অবস্থিত হিমালয়ঘেরা ছোট দেশটি দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত দলের প্রাধান্যে পরিচালিত হয়ে আসছে।

এর মধ্যে রয়েছে অলির কমিউনিস্ট পার্টি , যাকে চীনের দিকে ঝুঁকে থাকা দল হিসেবে দেখা হয়, এবং মধ্যপন্থি নেপালি কংগ্রেস, যেটিকে ভারতের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়।

ব্যালেনের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) একটি মধ্যপন্থি নতুন দল। নির্বাচনী ইশতেহারে তারা বলেছে, প্রতিবেশী দুই বৃহৎ দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে শাহ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন—বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, যা তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।

নেপালের বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিপরীতে শাহ মূলধারার গণমাধ্যম এড়িয়ে চলেন। বরং ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার ৩৫ লাখের বেশি অনুসারীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন।

স্বাধীন রাজনৈতিক বিশ্লেষক পুরঞ্জন আচার্য বলেন, সংক্ষিপ্ত সামাজিক মাধ্যম বার্তার মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকাই ব্যালেনের বিশেষত্ব। তবে প্রধানমন্ত্রী হলে তার জন্য পথচলা সহজ হবে না।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।