চুক্তির রূপরেখা সমঝোতায় ইরানে আনন্দ-উল্লাস


প্রকাশিত: ০৩:২১ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৫

পরমাণু ইস্যুতে চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার খবর শোনার পরপরই শুক্রবার তেহরানের রাজপথে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠে দেশটির সাধারণ মানুষ। আর এ চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার মধ্যদিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ইরানের নাগরিকরা এর মধ্যদিয়ে এক নতুন ইরান আশা করছে।

ইরানের স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে ভল-ই-আসর এভিনিউতে ৩০ বছর বয়সী অভিনেতা বেহরাং আলাভি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনার ফলাফলে আমরাই বিজয়ী হয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারব।’ এ সময় ইরানের ঐতিহ্য অনুযায়ী লোকজন বিজয়সূচক ভি-চিহ্ন প্রদর্শন করে এবং সাদা রুমাল উপরের দিকে তুলে ধরে।

উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ডে আটদিন ধরে পরমাণু আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ টুইটারে এ রূপরেখার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছানোর খবরটি জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের লুসানে সমঝোতায় পৌঁছার কথা ঘোষণা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ফেডেরিকা মগহেরিন এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী জাভাদ জরিফ। এই সমঝোতা অনুযায়ী ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বেশ খানিকটা ছাঁটকাট করবে।

এর সঙ্গেই তাল মিলিয়ে ইরানের উপরে জারি থাকা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে উঠতে থাকবে। চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যেই এই পরিকাঠামো মেনে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। পরে হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দেন। ওবামার এই ভাষণটি ইরানে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তেহরানের রাস্তায় নামে উল্লসিত জনতার ঢল। বেশ কয়েক বছর ধরেই ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক সমঝোতায় আসার জন্য আলোচনা চালাচ্ছিল আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। খবর এএফপি, আলজাজিরা ও বিবিসির।

এসএস/এআরএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।