কেজরিওয়ালে অতিষ্ঠ দিল্লি প্রশাসন!
দিল্লি প্রশাসনের শক্তি সচিব শকুন্তলা গামলিনকে অস্থায়ী মুখ্য সচিব হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়ায় উপ-রাজ্যপাল নজিব জঙ্গের সঙ্গে বিশ্রী বিবাদ চলছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। বিষয়টি নিয়ে সোমবার দিনভর নাটক চলে। দিল্লি সরকারের প্রধান সচিব অনিন্দ্য মজুমদারের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী! অপরাধ?
উপ-রাজ্যপালের নির্দেশে তিনিই অস্থায়ী মুখ্য সচিব পদে শকুন্তলা গামলিনের নিয়োগের চিঠিটি লিখেছিলেন। সোমবার সকালে দফতরে গিয়ে ঘরে তালা দেখে বিস্মিত মজুমদার জানতে পারেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তার ঘর বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। অনিন্দ্য মজুমদারকে তার পদ থেকেই সরিয়ে দিলেন কেজরিওয়াল। ঘনিষ্ঠ আমলা রাজেন্দ্র কুমারকে নিয়োগ করেছেন সেই পদে।
উপ-রাজ্যপাল জঙ্গ তা মেনে নেবেন কেন! তিনি খারিজ করে দিলেন রাজেন্দ্র কুমারের নিয়োগ। কেজরিওয়ালকে লেখা চিঠিতে জঙ্গ বলেন, সিনিয়র আমলাদের নিয়োগ বা বদলির ব্যাপারে শেষ কথা বলার মালিক উপ-রাজ্যপাল। সেই চিঠি সংবাদ মাধ্যমে এসে যেতে উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ শিসোদিয়ার প্রতিক্রিয়া: সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ চিঠি ফাঁস করে দিয়েছেন মিডিয়াতে। সংবিধান কি এটাও অনুমোদন করে?
শিসোদিয়া জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে বিষয়টি তুলবেন কেজরিওয়াল। বিবাদ গড়াচ্ছে রাষ্ট্রপতি ভবনেও। আগেই রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির কাছে সময় চেয়েছিলেন কেজরিওয়াল।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় তিনি দেখা করে নালিশ জানাবেন রাষ্ট্রপতির কাছে। ১০ দিনের জন্য ব্যক্তিগত কাজে আমেরিকায় গেছেন দিল্লির মুখ্য সচিব কে কে শর্মা। ওই ক’টা দিনের জন্য শক্তি দফতরের মুখ্য সচিব শকুন্তলাকে বাড়তি দায়িত্ব দেন উপ-রাজ্যপাল।
তার নির্দেশ পালন করেছিলেন অনিন্দ্য মজুমদার। কেজরিওয়ালের সঙ্গে পরামর্শ করেননি। অতএব কোপ তার ওপরও। অন্য দিকে উপ-রাজ্যপালের বক্তব্য, দেশের সংবিধানই তাকে এই ধরনের নিয়োগের অধিকার দিয়েছে। দু’পক্ষই অবস্থানে অনড়।
বিএ/এমএস