রাশিয়াকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই : পুতিন
রাশিয়া পশ্চিমা বিশ্বের জন্য হুমকি নয় বলে জানিয়েছেদেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, নতুন করে সহিংসতা সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি ইউক্রেনে একটি শান্তিচুক্তির প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।
ইতালির সংবাদপত্র কোরিয়ের জেলা সেরা’য় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পুতিন রাশিয়া ও ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, আমি বলতে চাই, রাশিয়াকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশ্ব এতোটাই বদলে গেছে যে মানুষ সুস্থ মনে আজকের দিনে এ ধরনের বড় সামরিক সংঘর্ষে কথা ভাবতে পারে না।
ক্রেমলিন প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের ট্রান্সক্রিপ্টে পুতিন ইতালির সংবাদপত্রটিকে আরো বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি। শুধু একজন অসুস্থ ব্যক্তি, কেবল ঘুমিয়ে থাকলেই ভাবতে পারে যে, রাশিয়া হুট করে ন্যাটোকে আক্রমণ করবে।
তিনি বলেন, ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় রাশিয়ার সামরিক ব্যয়ের দশ গুণ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ।
রাশিয়া গত বছর ইউক্রেনের ক্রিমিয়াকে নিজেদের সঙ্গে অঙ্গীভূত করে নিলে ইউরোপে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। বাল্টিক ও নর্ডিক দেশগুলো জানাচ্ছে গত ১৫ বছরে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা বেড়েছে।
পেন্টাগণ কর্মকর্তারা শুক্রবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে- ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোরদার অথবা ইউরোপে ভূমিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন।
ইউক্রেন সংকট প্রসঙ্গে পুতিন অভিযোগ করেন যে, কিয়েভ গত ফেব্রুয়ারিতে মিনস্কে ইউরোপীয় মধ্যস্থতায় হওয়া একটি শান্তি চুক্তি কার্যকর করতে অনীহা প্রকাশ করছে এবং তারা মস্কোপন্থী বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংলাপে বসতেও আগ্রহী হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, সমস্যা হলো বর্তমান কিয়েভ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে বসতেই চাচ্ছে না। আর আমরা এতে কিছুই করতে পারি না। আমরা চাই এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হোক।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিয়েভের বিদ্রোহীদের দখলকৃত ভূখন্ডে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এবং পৌরসভা নির্বাচন ও সাধারণ ক্ষমা সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়ন করা উচিত। স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্রগুলোর নেতারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে’ যে, কিছু শর্তসাপেক্ষে অর্থাৎ মিনস্ক চুক্তি বাস্তবায়নের শর্তে তারা নিজেদের ইউক্রেনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে প্রস্তুত আছেন।
আরএস