শিক্ষিকার ব্লাউজ ছিঁড়ে পুলিশের তাণ্ডব!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৮ এএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯

সম কাজে সম বেতন এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পার্শ্বশিক্ষকদের সহকারী শিক্ষকের মর্যাদার দাবিতে পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষকদের বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। শিক্ষকদের অভিযোগ, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় অনশনমঞ্চের আলো নিভিয়ে শিক্ষিকাদের পোশাক ছিঁড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে৷ শিক্ষকার ব্লাউজ ছেঁড়া হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে তাণ্ডবের অভিযোগ তুলে আগামীকাল সোমবার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন শিক্ষকরা।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, নারী পুলিশ না আনিয়ে শিক্ষিকাদের ওপর তাণ্ডব চালানো হয়েছে। নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা হয়েছে৷ পুলিশি তাণ্ডবের প্রতিবাদে কল্যাণী স্টেশন লাগোয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবরোধ করে রেখেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।

পুলিশের দাবি, অনুমতি না নিয়ে অনশন করার অভিযোগে তাদের এলাকা ফাঁকা করতে নির্দেশ দেয়া হয়৷ এই নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষকদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বাগবিতণ্ডা। শিক্ষকরা অভিযোগ করছেন, নির্বিচারে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়।

পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ভগীরথ ঘোষ অভিযোগ করেন, ‘শতাধিক শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে। এটা কোনও গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। কলকাতা থেকে মার খেয়ে কল্যাণীতে এসেছিলাম। এখানেও মেরে তাড়িয়ে দেয়া হল।’

পার্শ্বশিক্ষকদের দাবি, প্রাথমিক স্কুলে তাদের ১০ হাজার টাকা এবং উচ্চ প্রাথমিকে ১৩ হাজার টাকা বেতন দেয়া হয়। ২০০৪ ও ২০০৭ সালে নিয়োগ পাওয়া পার্শ্বশিক্ষকদের যোগ্যতা পূর্ণ সময়ের শিক্ষকদের চেয়ে কম নয়। তারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এখন উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ।

কিন্তু এই পার্শ্বশিক্ষকেরা যখন উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ পেয়েছিলেন তখন তাদের ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল স্নাতক। ফলে অনেক পার্শ্ব শিক্ষক শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে পূর্ণ সময়ের শিক্ষকের চেয়ে এগিয়ে। তাদের আক্ষেপ: তৃণমূল নেতৃত্ব এক সময়ে পূর্ণ সময়ের শিক্ষকের মর্যাদা দেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘পুলিশের এই বর্বরতা এবং তাণ্ডবমূলক আচরণের ধিক্কার জানাই। এভাবে কোনোদিন আন্দোলন দমন করা যায় না। দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।’’

মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে শিক্ষকদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এভাবে পুলিশি বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানাই। পার্শ্বশিক্ষকদের সম্মানজনক ভাতা ও মর্যাদার ব্যাপারে পূর্বতন সরকারের মতো বর্তমান সরকারও চরম বঞ্চিত করছে।’

এসএ/এমএস