ত্রিপুরা
নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাস মোকাবিলার উদ্যোগ, আসছেন গণনা পর্যবেক্ষক
ত্রিপুরা প্রতিনিধি: ভোটপর্ব শেষ হয়েছে এক সপ্তাহ আগেই। ফলাফল ঘোষণা করা হবে পরবর্তী সপ্তাহে। মধ্যবর্তী এই সময়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে একপ্রকার সন্ত্রাসের আবহ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর হচ্ছেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করার ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ভোটপরবর্তী হিংসা মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে শুরু করে। এরই মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন বিরোধী দল সিপিআইএমের এক কর্মী। অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে গোটা প্রশাসন।
সুশীল সমাজের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতির যেন অবনতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানিয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা, মুখ্য সচিব এবং পুলিশ মহানির্দেশকের কাছে।
আরও পড়ুন>> উন্নয়ন ধরে রাখতে ফের বিজেপিকে দরকার: মোদী
সুশীল সমাজের পক্ষে ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের সাবকে বিচারপতি এ বি পাল, বিভাস কিলিকদার জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর যেভাবে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে রাজ্যে, তা কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। এতে রাজ্য সম্পর্কে বাইরে ভুল বার্তা পৌঁছাচ্ছে। তারা বলেন, রাজ্যের সুনাম যাতে অক্ষুণ্ন থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
বিশিষ্ট লেখক কৃষ্ণধন নাথ বলেন, বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার সর্বত্র যে ভয়ংকর সন্ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুত মিটিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। তার অভিযোগ, ভোটের আগেও এই সন্ত্রাস জারি করে আতঙ্কিত করে রাখা হয়েছে রাজ্যকে।
আরও পড়ুন>> উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অমিত শাহ
বিশিষ্ট সাংবাদিক সুবল কুমার দে, অরুণ নাথ, শেখর দত্তরা বলেছেন, সন্ত্রাস করে রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া কোনো অবস্থাতেই সমাধানের পথ হতে পারে না। ভোটপরবর্তী হিংসা এবং নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার দিনও যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জনগণকেও সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে, রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা (সিইও) কিরণ গিত্তে নিজেও গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগপর্যন্ত কড়া নজরদারি রাখতে চান। বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মুখ্য সচিব জে কে সিনহা এবং পুলিশের মহানির্দেশক অমিতাভ রঞ্জন, অতিরিক্ত মহানির্দেশক সৌরভ ত্রিপাঠীকে নিয়ে বৈঠক করেছেন তিনি। পরে সিপাহীজলা জেলা সদরেও পৃথক একটি বৈঠকে অংশ নেন কিরণ গিত্তে।
আরও পড়ুন>> বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে ফের বাম-কংগ্রেস জোট
বৈঠক থেকে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং শান্তি-সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
যতদূর খবর, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ত্রিপুরায় আসতে চলেছেন গণনা পর্যবেক্ষকরা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেও তিনজন বিশেষ পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন।
কেএএ/