নেপালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
জোট সরকারকে সমর্থন দেবে না কেপি ওলির দল
আগামী ৯ মার্চ নেপালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। ২০২২ সালের নভেম্বরে দেশটিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । কিন্তু কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় পুষ্পকমল দহলের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠিত হয়। এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে জোটের মধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে।
নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন দল সিপিএন-ইউএমএল সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে, দলটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুষ্পকমল দহরের নেতৃত্বে গঠিত জোট সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করবে। রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করে দলটি।
আরও পড়ুন> নেপালের প্রধানমন্ত্রী হলেন পুষ্পকমল
সোমবার নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির-(ইউনিফাইড মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) ও (সিপিএন-ইউএমএল) এর জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক এ ঘোষণা আসে।
ইউএমএল-এর ভাইস চেয়ারম্যান বিষ্ণু পাউদেল বলেন, ‘নেপালের প্রধানমন্ত্রী ভিন্ন ফ্যাশনে কাজ শুরু করার পর এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে আমরা সরকারের জোট থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আরও পড়ুন> নেপালে উপ-প্রধানমন্ত্রীসহ ৪ জনের পদত্যাগ, বিপাকে জোট সরকার
পুষ্পকমল ও কেপি শর্মা ওলির জোট ভেঙে যাওয়ার প্রধান কারণ ছিল মাওবাদী নেতা নেপালি কংগ্রেস নেতা রাম চন্দ্র পাউদেলকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সমর্থন করা।
পাউদেলের নেপালি কংগ্রেস একটি বিরোধী দল। তারা ক্ষমতাসীন জোটের বাইরে রয়েছে।
এদিকে, ওলি পাউদেলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সুবাস নেমবাংকে সিপিএন-ইউএমএল পার্টির সদস্য মনোনীত করেছেন।
করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক গোলযোগের মধ্যে পড়ে নেপাল। এরপর থেকেই দেশটিতে জিনিসপত্রের দাম বাড়া শুরু হয়। দুই বছর পর আবারও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে অন্যান্য দেশের মতো নেপালেও বেড়েছে সব পণ্যের দাম।
নেপালে ৬ বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চে ৮ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া গত কয়েক বছরে পর্যটকদের আনাগোনা কমেছে দেশটিতে। দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ ২ ডলারের চেয়ে কম আয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছে।
সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট, এনডিটিভি
এসএনআর/এএসএম