ভারতের উত্তরাখণ্ডে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে। আস্থাভোটের একদিন আগেই রোববার রাষ্ট্রপতি শাসনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কংগ্রেসশাসিত এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াতকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন উত্তরাখণ্ডের রাজ্যপাল। এ নিয়ে শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপি বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়। এতে সম্মতি দেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে কংগ্রেসের ৯ বিধায়ককে নিয়ে উত্তরাখণ্ডে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। শনিবার কংগ্রেসের ওই ৯ বিধায়ককে অযোগ্য বলে ঘোষণা করেন বিধানসভার স্পিকার গোবিন্দ সিং কুঞ্জওয়াল। ফলে সোমবার ভোটাভুটিতে ওই ৯ বিধায়ক অংশ নিতে পারবেন না।
এ পরিস্থিতিতে আস্থাভোটে হরিশ রাওয়াত সরকারের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। কারণ ৯ বিধায়ক অযোগ্য হওয়ায় ৭০ আসনের উত্তরাখণ্ড বিধানসভার শক্তি কমে দাঁড়ায় ৬১-তে। অর্থাৎ আস্থাভোট জিততে হরিশ রাওয়াতের প্রয়োজন ছিল ৩১ আসনের। কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা (বিদ্রোহীদের বাদ দিয়ে) ২৭।
এর মধ্যে, বিদ্রোহী বিধায়করা নতুন বোমা ফাটায়। হরিশ রাওয়াতের একটি স্টিং ভিডিও প্রকাশ করে তাঁরা দাবি করেন, সরকার বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী বিধায়ক কেনাবেচা করেছেন। এরপরই রাজ্যের প্রধান বিরোধী বিজেপি কেন্দ্রের কাছে দরখাস্ত করে উত্তরাখণ্ডে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার জন্য।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। রাওয়াতের অভিযোগ, অর্থ ও ক্ষমতার বলে গণতন্ত্রে আঘাত করেছে বিজেপি। তবে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তিনি জানান, গণতন্ত্র ভেঙে যাওয়ার সব উপাদান ছিল উত্তরাখণ্ডে। ফলে রাষ্ট্রপতি শাসন সেখানে অনিবার্য ছিলই।
এসআইএস/পিআর