সম্রাটের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার রায় ২৫ ফেব্রুয়ারি
ঢাকার অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার হোতা ও যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার রায় আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ষষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক জাকারিয়া হোসেন এ দিন ধার্য করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন আসামির আত্মপক্ষ শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন রাখা হয়েছিল। দুদকের পক্ষে কৌঁসুলি নুরে আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি হয়নি।
মামলাটির তথ্যানুযায়ী, সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর, যিনি এ মামলার তদন্তও করেন। এরপর ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো কার্যক্রমের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সম্রাট আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করে র্যাব। সেইদিন বিকেলে সম্রাটের কার্যালয়ে কাকরাইলের ভুয়া ট্রেড সেন্টার-এ অভিযান চালানো হয়।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চলা অভিযানে উদ্ধার করা হয়— গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং বৈদ্যুতিক ‘নির্যাতন করার’ সরঞ্জাম। ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ায় সম্রাটকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া ঢাকার রমনা থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ১১ মে-র মধ্যে চার মামলায় জামিন পান সম্রাট। কারাগারে থাকা ৩১ মাস পর তার মুক্তি হয়।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর, গত বছরের ১৭ জুলাই সম্রাটের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আবেদন গ্রহণ ও অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় এবং তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলাটিতে গত ২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। অভিযোগপত্রভুক্ত ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য আদালতে নেওয়া হয়েছে।
এমডিএএ/এমএএইচ/