আইনজীবীদের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে ‘৪ ম্যাজিক ফ্যাক্টর’

আশিকুজ্জামান
আশিকুজ্জামান আশিকুজ্জামান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৯ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি প্রার্থী মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কালাম খান ও মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক (বাঁ থেকে), জাগো নিউজ কোলাজ ছবি

ভোট নেওয়া হবে ২৯ ও ৩০ এপ্রিল
২৩টি পদে নির্বাচন করছেন ৫৪ জন
মোট ভোটার সংখ্যা ২১,৭৩১ জন
নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবী
মুখোমুখি বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে আগামীকাল বুধবার। এই নির্বাচনে নেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থি কোনো আইনজীবী। দুই দশকের বেশি সময় একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীরা এবার আলাদা প্যানেলে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে ২১ হাজার ৭৩১ জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীদের বেছে নেবেন। তবে এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে চারটি ‘ম্যাজিক ফ্যাক্টর’। সেই ফ্যাক্টরেই প্রার্থীদের জয়-পরাজয় ঠিক হবে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন আইনজীবী।

মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৪ মাস পর ভোট

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষ দুটি তারিখে ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) নির্বাচন হওয়ার রেওয়াজ থাকলেও গত দুই বছর তা হয়নি। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪-২৫ মেয়াদের ওই কমিটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালে সমিতির কোনো নির্বাচন হয়নি।

চলতি বছর গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সময়সূচি পিছিয়ে যায়। নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৪ মাস পর আগামীকাল বুধ ও বৃহস্পতিবার (২৯ ও ৩০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচন। এতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে ভোটগ্রহণ হবে।

নির্বাচন নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির কারণে নির্বাচনি উত্তাপও কিছুটা বেশি।

৪ ‘ম্যাজিক ফ্যাক্টর’ প্রভাব ফেলবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে

ঢাকার আদালত চত্বরে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রচারণা, ছবি: জাগো নিউজ

প্রতিদিন আদালত চত্বরে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ছে। নিজ নিজ কর্মী-সমর্থক, অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীদের নিয়ে তারা সাধারণ ভোটারদের কাছে গিয়ে সমর্থন চাইছেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে চলছে হ্যান্ডবিল বিতরণ, মুখোমুখি গণসংযোগ এবং ছোট ছোট বৈঠক। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জোরালো প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পোস্ট, ভিডিও বার্তা ও বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।

এভাবে মাঠ ও অনলাইন দুই জায়গায়ই জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচারণা। সময় যত গড়াচ্ছে, এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বেলা গড়ালেই আগামী দুদিন অনুষ্ঠিত হবে এই ভোট।

‘ম্যাজিক ফ্যাক্টর’ কোনগুলো

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে ভোটের সমীকরণে কে জিতবেন, এ প্রশ্নের উত্তরে সামনে এসেছে চারটি নির্দিষ্ট ফ্যাক্টর। এই ফ্যাক্টর ভোটের বড় অংশ নির্ধারণ করে দেবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য বোরহান উল হায়দার।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘একজন প্রার্থীর জয়-পরাজয় মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। রাজনৈতিক পরিচয়, আঞ্চলিক ভিত্তি, শিক্ষাগত পরিচয় এবং ব্যক্তিগত আচরণ।’

আরও পড়ুন
ঢাকা বার নির্বাচন ২৯-৩০ এপ্রিল
দুই মিনিটের বক্তব্যে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইলেন প্রার্থীরা
সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল ঘোষণা

গত রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘প্রার্থী পরিচিতি সভা’য় এই চারটি বিষয়ের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রার্থীরা বারবার নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান, নিজ জেলা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়গুলো জোর দিয়ে তুলে ধরছেন। কেউ নিজের এলাকার নাম বারবার উল্লেখ করছেন, কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় সামনে এনেছেন, এমনকি কেউ কেউ নিজেদের পারিবারিক বা সামাজিক সংযোগও (প্রার্থী কোন এলাকার জামাই) তুলে ধরেছেন।

ভোটের গণিত: ৩৫% রাজনীতি, ৩৫% অঞ্চল

অ্যাডভোকেট বোরহান উল হায়দার একটি প্যানেলের সাধারণ সম্পাদকের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। ‘প্রার্থী পরিচিতি সভা’র এক ফাঁকে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচনে প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোট নির্ভর করে প্রার্থীর সমর্থিত রাজনৈতিক দলের ওপর। একইভাবে আরও ৩৫ শতাংশ ভোট আসে প্রার্থীর গ্রামের বাড়ি বা আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে।

তার ভাষায়, বৃহত্তর বরিশাল, নোয়াখালী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বাইরে থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী হওয়া খুবই কঠিন। কোনো ক্ষেত্রে সদস্য পদগুলো অন্য অঞ্চল পেতে পারে।

আরও পড়ুন ঢাকা বার নির্বাচন ২৯-৩০ এপ্রিল দুই মিনিটের বক্তব্যে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইলেন প্রার্থীরা সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল ঘোষণা

ঢাকার আদালত চত্বরে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রচারণা, ছবি: জাগো নিউজ

অন্যদিকে ‘প্রায় ২০ শতাংশ ভোট নির্ভর করে প্রার্থীর শিক্ষাজীবনের ওপর, বিশেষ করে তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। বাকি ১০ শতাংশ ভোট নির্ভর করে তার ব্যক্তিত্ব, আচরণ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর।’ যোগ করেন আইনজীবী বোরহান উল হায়দার।

বোরহান উল হায়দার বলেন, ভোটাররা অনেক সময় এককভাবে কোনো প্যানেলকে ভোট না দিয়ে বিভিন্ন প্যানেল থেকে প্রার্থী বেছে নেন। এতে সমিতির ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অনিয়মের সুযোগ কমে।

সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন বয়সী অন্তত আরও ছয়জন নারী ও পুরুষ আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে, ভোটের এই ‘ম্যাজিক চার ফ্যাক্টর’ সম্পর্কে বক্তব্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি আদালতপাড়ায় বিভিন্ন স্থানে দুই সপ্তাহ ধরে অন্য আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেও বিষয়টির প্রভাব সম্পর্কে জানা যায়।

আরও পড়ুন
ঢাকা বার নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ
আদালত বর্জন করে আজও বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের বিক্ষোভ
আ’লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে জাতিসংঘে আইনজীবীদের আবেদন

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খালিদ হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই চার ফ্যাক্টর আসলে ভোটব্যাংকের মতো কাজ করে। ভোটাররা আগে দেখেন প্রার্থী কোন রাজনৈতিক ধারার, তারপর তার অঞ্চল ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ। অনেক সময় দেখা যায়, খুব দক্ষ প্রার্থীও শুধু এই সমীকরণে না পড়ায় পিছিয়ে যান।’

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন দেখছি, তারা জানি, এই চার ফ্যাক্টর সব সময়ই কাজ করেছে। এখন শুধু সেটি আরও দৃশ্যমান হয়েছে।’

তবে আইনজীবী রাশেদা সুলতানা বলেন, রাজনীতি ও অঞ্চল বড় ফ্যাক্টর ঠিকই, কিন্তু এখন নতুন প্রজন্ম ব্যক্তিত্ব ও আচরণকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। আদালতে কার ব্যবহার কেমন, সেটাও ভোটে প্রভাব ফেলে।

তার মতে, বিশেষ করে নারী ভোটারদের একটি অংশ প্রার্থীর আচরণ ও সহমর্মিতাকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দেন।

৪ ‘ম্যাজিক ফ্যাক্টর’ প্রভাব ফেলবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে

ঢাকার আদালত চত্বরে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রচারণা, ছবি: জাগো নিউজ

আঞ্চলিক সমীকরণ

কোন অঞ্চলের প্রার্থী কতটা শক্তিশালী এবারের নির্বাচনে প্রধান দুই প্যানেলের শীর্ষ পদগুলোতেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে আঞ্চলিক সমীকরণ।

জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিনের বাড়ি ফেনী জেলায়। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. আবু বাক্কার সিদ্দিকের বাড়ি ময়মনসিংহ অঞ্চলে।

অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার বাড়ি কুমিল্লা। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কালাম খানের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে।

আইনজীবীরা বলছেন, এই আঞ্চলিক বণ্টন কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়; ভোটের হিসাব-নিকাশ করেই প্যানেলগুলোর নীতি-নির্ধারকরা এমন সমন্বয় করেছেন।

আরও পড়ুন
ঢাকা বারের নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা জামায়াতপন্থি সবুজ প্যানেলের
ডিজিটাল ভোট গণনা চাই, পাতানো নির্বাচনে অংশ নেব না: শিশির মনির
কোর্ট ফি’র ২০ শতাংশ কল্যাণ তহবিলে জমার দাবি আইনজীবীদের

নতুন প্রজন্মের আইনজীবীরা কী ভাবছেন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তরুণ আইনজীবী মাহমুদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা যারা নতুন ভোটার, তারা প্যানেল না দেখে অনেক সময় ব্যক্তি দেখে ভোট দেই। তবে বাস্তবতা হলো, রাজনৈতিক পরিচয় পুরোপুরি এড়ানো যায় না।’

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বা ব্যাচভিত্তিক নেটওয়ার্কও এখন বড় ভূমিকা রাখছে।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২০-২১ কমিটির দপ্তর সম্পাদক এইচ এম মাসুম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ায় আগ্রহ অনেক বেশি। এখানে আসলেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর কাজ করে, যার মধ্যে আঞ্চলিকতা ও রাজনৈতিক পরিচয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক গ্রুপিংও শক্তিশালী। অনেকেই নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেন। 

৪ ‘ম্যাজিক ফ্যাক্টর’ প্রভাব ফেলবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী পরিচিতি সভা, ছবি: জাগো নিউজ

প্রার্থীদের নানা প্রতিশ্রুতি

এদিকে ‘প্রার্থী পরিচিতি সভা’য় প্রার্থীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে নানা প্রতিশ্রুতি। আদালত প্রাঙ্গণের পরিবেশ উন্নয়ন, আইনজীবীদের কল্যাণ তহবিল শক্তিশালী করা এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য হলেও করতালি ও স্লোগানে পুরো প্রাঙ্গণে তৈরি হয় নির্বাচনি উত্তাপ।

আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের প্রতিশ্রুতি ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়ন কতটা হবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

দুদিনে ভোট, ২৩ পদে লড়াই

ঢাকা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে দুদিন ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে ৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবার দুটি প্রধান প্যানেল মুখোমুখি, বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘নীল প্যানেল’ এবং জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’। উভয় প্যানেলে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন আটজন। নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ১৩টি সম্পাদকীয় পদ, ১০টি সদস্য পদ।

আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সদস্য পদে নির্ধারিত ১০ সংখ্যার কম বা বেশি ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে।

ভাঙল বিএনপি ও জামায়াত জোট

দুই দশকের বেশি সময় একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াত এবার আলাদা হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। ফলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে।

৪ ‘ম্যাজিক ফ্যাক্টর’ প্রভাব ফেলবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে

সবুজ প্যানেলের প্রার্থীরা

জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত ‘আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেল)’ পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মো. শাহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান (আজাদ), কোষাধ্যক্ষ মো. আজমত হোসেন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আক্তার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরি সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার, অফিস সম্পাদক মো. আবদুর রাজ্জাক, ক্রীড়া সম্পাদক বাবুল আক্তার (বাবু), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ নির্বাচনে লড়ছেন।

সদস্য পদে সবুজ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা), জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন (নয়ন), মো. মহসিন (রেজা), মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনুস এবং মোশাররফ হোসেন।

সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সবুজ প্যানেলের শঙ্কা

সবুজ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দীন অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। তার দাবি, বিএনপিপন্থি কমিশনারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, তারা যদি সুষ্ঠু নির্বাচন চাইত, তাহলে এমনটা করত না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে আমাদের কিছুই করার থাকবে না।

৪ ‘ম্যাজিক ফ্যাক্টর’ প্রভাব ফেলবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে

নীল প্যানেলের প্রার্থীরা

ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল)’ পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। এই প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান লড়ছেন।

প্যানেলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. এলতুতমিশ সওদাগর (অ্যানি), সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ এস এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম (শফিক)।

সদস্য পদে নীল প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন এবং সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।

নীল প্যানেলের প্রত্যাশা: সুষ্ঠু নির্বাচন ও জয়

নীল প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কামাল খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকা বারে এটি কোনো দলীয় নির্বাচন নয়, এটি আইনজীবীদের নির্বাচন। আমি আইনজীবীদের জন্য কাজ করেছি। তারা আমাকে সমর্থন করবেন।’

তিনি বলেন, অতীতের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হবে এবং সাধারণ আইনজীবীদের সমর্থন তারা পাবেন বলে আশাবাদী।

আরও পড়ুন
আদালত পাড়ায় নতুন বছরের আবহে ‘আইনজীবী ডায়েরি’ কেনার ধুম
ঢাকা জজ কোর্ট এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক চেয়ে রিট
ফ্যাসিবাদ ফেরাতে কাজ করলে ছাড় নয়: বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা

স্বতন্ত্র প্রার্থী যারা

দুই প্রধান প্যানেলের বাইরে এবারের নির্বাচনে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ পদে রফিকুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়ান আবুল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ওলিদা বেগম, দপ্তর সম্পাদক পদে জাকির হোসাইন ও সদস্য পদে মৌসুমি বেগম রয়েছেন। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের কাছে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

৪ ‘ম্যাজিক ফ্যাক্টর’ প্রভাব ফেলবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে

ঢাকার আদালত চত্বরে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রচারণা, ছবি: জাগো নিউজ

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও অভিযোগ

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো প্যানেল অংশ নিচ্ছে না। তবে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের দাবি, তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য শাহীন মোর্শেদ বলেন, ‘আমরা অংশ নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের সুযোগ দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোট প্রায় সমান ছিল। সেই হিসাবে আমাদের সমর্থক প্রায় অর্ধেক ভোটার। তাদের বাইরে রেখে গণতন্ত্র সম্ভব নয়।’

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা প্রসঙ্গে শাহীন মোর্শেদ বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলকে আইন করে নিষিদ্ধ করা যায় না। আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীনতম দলগুলোর একটি এবং জনগণের বড় একটি অংশ তাদের সমর্থন করে।’

‘ভোট অবশ্যই সুষ্ঠু হবে’

সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিবার নির্বাচনের আগে এমন অভিযোগ ওঠে। তবে ভোট অবশ্যই সুষ্ঠু হবে।’

এমডিএএ/এমএমএআর/ এমএফএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।