গ্রামীণ টেলিকম অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে শ্রমিক ইউনিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৮ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্টের কোম্পানি কোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চে এ শুনানি হবে।

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান এর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী এই আবেদন দায়ের করে। আবেদনকারী আইনজীবী নিজে বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী জানান, গ্রামীণ টেলিকমের কাছে শ্রমিকদের পাওনা ২৫০ কোটি টাকার বেশি। এই পাওনা টাকার দাবিতে কোম্পানিটির অবসায়ন চাওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ টেলিকমে শ্রমিক ছাটাইকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ চলে আসছে। জানা গেছে, এক নোটিশেই ৯৯ কর্মীকে ছাঁটাই করেছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকম। পাওনা চেয়ে মামলা করায় এমনটা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতরা।

গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা জানান, কোনো নোটিশ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-২১৯৪) সিবিএ’র সঙ্গে আলোচনা না করেই এক নোটিশের মাধ্যমে ৯৯ কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গ্রামীণ টেলিকম ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে এ ছাঁটাই করা হয়েছে।

বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় ২০১৬ সালে প্রথম মামলা করেন গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ১৪ কর্মী। পরে বকেয়া পাওনা চেয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ৯৩টি মামলা করেন তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি গ্রামীণ টেলিকমের বর্তমান কর্মীরা। ঢাকার শ্রম আদালতে সবমিলে ১০৭টি মামলা করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ১৪ কর্মী আরও ১৪টি মামলা করেন পাওনা টাকার জন্য।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে ৩৪.২০ শতাংশ শেয়ার আছে গ্রামীণ টেলিকমের। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব পল্লীফোন ছাড়াও নোকিয়া মোবাইলের সার্ভিস দিয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কর্মীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকমের মুনাফা হয়েছে ৬ হাজার ১৫ কোটি টাকা। কিন্তু এ নিট মুনাফার ৫ শতাংশ কর্মীদের, প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ তহবিল ও সরকারের শ্রমিক কল্যাণ তহবিল ও ৮০ঃ১০ঃ১০ অনুপাতে পরিশোধ করার বিধান থাকলেও তা পরিশোধ করা হয়নি।

সেইসঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল ও শ্রম অধিদফতরের কলকারখানা এবং প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর থেকে সরকারের পাওনা টাকা চেয়ে বারবার চিঠি দিয়ে তাগাদা দিলেও কোনো কর্ণপাত করেনি গ্রামীণ টেলিকম। উল্টো শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করে নোটিশের মাধ্যমে ৯৯ জন কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়।

তার মধ্যে শ্রম অধিদফতর কর্তৃক নিবন্ধনকৃত গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (বি-২১৯৪) ইউনিয়ন সদস্য ও নেতারাও রয়েছেন।

ছাঁটাই সম্পর্কে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান বলেন, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ২০১৬ সালের ২৫ তারিখ এক চিঠিতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাতজন কার্যকরী সদস্য রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মী ও ইউনিয়নের কার্যকরী সদস্য ছাঁটাই সম্পূর্ণ বেআইনি।

এছাড়া গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে ঢাকার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর। ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে এ মামলা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান। বিবাদীদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও শাহজাহান।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্রম আইনের কিছু লঙ্ঘন দেখতে পান। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি।

শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। এ ছাড়া কোম্পানির লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা তাদের দেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে এ মামলা করা হয়।

এফএইচ/এসএইচএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।