বায়োফার্মা

পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ২৮ মে ২০২৩

ওষুধ কোম্পানি বায়োফার্মা লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম–দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে আগামী দুই মাসের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সঙ্গে সঙ্গে হাইকোর্ট দুদককে ও এনবিআরের প্রতি করা আবেদন দুটি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

ওই দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থপাচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআরের) চেয়ারম্যান, বিএফআইইউ, বায়োফার্মা লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগমী ৩০ জুলাই দিন রেখেছেন আদালত।

কোম্পানির দুজন শেয়ারহোল্ডারের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার (২৮ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুস সালাম মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বায়োফার্মার পরিচালকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ পাচারসহ অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুদকের মহাপরিচালক বরাবর গত ২ এপ্রিল আবেদন দেন তিনজন শেয়ারহোল্ডার। তারা হলেন মো. জাহাঙ্গীর আলম, মোর্শেদ উদ্দিন আকন্দ ও আব্দুল্লাহ হেল কাফি। পরবর্তী সময়ে জাহাঙ্গীর আলমসহ তিনজন শেয়ারহোল্ডার বায়োফার্মা লিমিটেডের কর ফাঁকি, ব্যাংক হিসাবের তথ্য গোপনের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আবেদন দেন।

অন্যদিকে ‘দেশে দেশে পাচার বায়োফার্মার টাকা’ শিরোনামে গত ১৮ এপ্রিল একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে এবং দুদক ও এনবিআরে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ার প্রেক্ষাপটে মোর্শেদ উদ্দিন আকন্দ ও মো. জাহাঙ্গীর আলম গত সপ্তাহে ওই রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট দুদককে ও এনবিআরকে ওই আবেদন দুটি নিষ্পত্তি করারসহ রুল জারিরি নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে মন্ত্রী-এমপি, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে দহরম-মহরম সম্পর্ক। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তোলা হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও; কিন্তু লন্ডনে স্ত্রীর জন্য চেয়েছেন রাজনৈতিক আশ্রয়। শুধু তা–ই নয়, লন্ডনে কোম্পানি খুলে ব্যবসাও করছেন। কয়েকটি দেশে তৈরি করেছেন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য দেশ থেকে অবৈধ চ্যানেলে নেওয়া হয়েছে বিপুল অঙ্কের টাকা। বিদেশে টাকা পাচার করে বিত্তবৈভবে ফুলেফেঁপে উঠলেও যেই কোম্পানির হাত ধরে এত কিছু, সেই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে রুগ্ণ দশায়। গত ১৫ বছরেও শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়নি বার্ষিক সাধারণ সভা। ২২ বছর ধরে দেওয়া হয় না কোনো লভ্যাংশ।

এ সময়ে মোট পণ্য বিক্রির ৪০ শতাংশ কম দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে এসব অনিয়মের চিত্র। এমন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বায়োফার্মা লিমিটেড। ওষুধশিল্পে একসময় নেতৃত্ব দেওয়া এ প্রতিষ্ঠান এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে। ধারাবাহিক অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের মূল কারিগর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ডা. লকিয়ত উল্লাহ। কাগজে-কলমে ডিএমডি হলেও তিনিই প্রতিষ্ঠানটির সর্বেসর্বা।

এফএইচ/জেএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।