চট্টগ্রামে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:৪২ এএম, ২০ জুলাই ২০২৩
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের ভুজপুরে সুমি আকতার নামের এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মহিউদ্দিনকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে মামলার অপর দুই আসামি মহিউদ্দিনের বাবা-মাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৯ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৭ এর বিচারক ফেরদৌস আরা এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মহিউদ্দিন ভুজপুর থানার বড় বেতুয়া গ্রামের আলম মাস্টার বাড়ির মো. নুরুর ছেলে। খালাস পাওয়া দুইজন হলেন- মহিউদ্দিনের বাবা মো. নুরু এবং মা জরিনা বেগম। রায় ঘোষণার সময় মহিউদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কফিল উদ্দিন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার আরিফুল আলম বলেন, ভুজপুরে সুমি হত্যা মামলার বিচারকালে আদালত ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মূল আসামি মো. মহিউদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে সাজামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর খাগড়াছড়ির রামগড় থানার পাতাছড়া এলাকার আবু বক্কর ছিদ্দিকের মেয়ে সুমি আকতারের সঙ্গে বিয়ে হয় মহিউদ্দিনের। বিয়ের কিছুদিন না যেতেই সুমির পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন মহিউদ্দিন। পরে দাবি করা যৌতুক না পেয়ে সুমিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। সুমি বিষয়টি তার পরিবারকে জানান। এতে দুই পরিবারের মধ্যে সালিশ বৈঠক বসে। এতে সুমিকে আর কখনো নির্যাতন করবেন না বলে ক্ষমা চান মহিউদ্দিন।

পরে ২০১৯ সালের ১৪ আগস্ট তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা সুমির মাথায় আঘাত করলে তিনি মারা যান। বিষয়টি জানার পর সুমির পরিবার থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এরপর সুমির বাবা আবু বক্কর ছিদ্দিক মামলা দায়ের করতে ভুজপুর থানায় গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সুমির বাবা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ হত্যা মামলা করেন। মামলায় সুমির স্বামী মহিউদ্দিন ও তার বাবা-মাকে আসামি করা হয়।

ওই মামলা গ্রহণ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেন। পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে ভোতা অস্ত্রের আঘাতে মাথায় আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে সুমির মৃত্যু হয়েছে। এরপর ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মহিউদ্দিন ও তার বাবা-মাকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। পরে ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি মামলায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

ইকবাল হোসেন/কেএসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।