মঙ্গলবারের মধ্যে রায়ের কপি পাওয়ার আশা আদিলুর-এলানের আইনজীবীর
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানের দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করা হবে। তবে, আপিল করার আগে বিচারিক (নিম্ন) আদালতের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তাদের আইনজীবী। সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অথবা মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) যেকোনো দিন রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার আশা করছেন তারা। রায়ের অনুলিপি পেলেই হাইকোর্টে আপিলের পাশাপাশি তাদের জামিন চাওয়া হবে।
রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) আদিলুর রহমান খানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ভূঁইয়া বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার দিনই আদালতে রায়ের অনুলিপির জন্যে আবেদন জমা দিয়ে রেখেছি। এখন শুধু অপেক্ষার পালা কবে পাবো সেই রায়ের অনুলিপি।
তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী রায় ঘোষণার এক মাসের মধ্যে আপিল আবেদন করা যাবে। কিন্তু রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার দিন থেকে দিন গণনা শুরু হবে। অর্ডারের কপি পাওয়া পর ৩০ দিন অর্থাৎ এক মাসের মধ্যে আপিল আবেদন করা হবে। সে হিসেবে আমরা আবেদন করার পর থেকে রায়ের কপি পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। সেটা সোমবার অথবা মঙ্গলবার যেকোনো দিন রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুলিপি পেলেই হাইকোর্টে আবেদন করা হবে।
এর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে হেফাজত ইসলামের সমাবেশে অভিযান নিয়ে তথ্য বিকৃতির অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও সংগঠনটির পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানের ২ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত এ রায় ঘোষণা করেন। এটা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের প্রথম মামলা।
২০১৩ সালে ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলাম সমাবেশ করে। পরে সমাবেশস্থলে রাত্রিযাপনের ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা। তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে যৌথ অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই অভিযানে ৬১ জন নিহত হয় বলে দাবি করেছিল অধিকার।
তবে, সরকারের ভাষ্য সেই রাতের অভিযানে কেউ মারা যায়নি। শাপলা চত্বরে অভিযানের পর ২০১৩ সালের ১০ আগস্ট গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন ডিবির তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম।
তদন্ত শেষে ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে আদিলুর ও এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে ৩২ জনকে সাক্ষী করা হয়। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য অভিযোগ আমলে নেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২০১৪ সালে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশন দেন আদালত।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি আদিলুর ও এলান ৬১ জনের মৃত্যুর ‘বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা’ তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি ও প্রচার করে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের অপচেষ্টা চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকার ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি দেশে-বিদেশে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।’
‘পাশাপাশি তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি করে, যা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ (১) ও (২) ধারায় অপরাধ। একইভাবে ওই আসামিরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চালায় এবং সরকারকে অন্য রাষ্ট্রের কাছে হেয় করার চেষ্টা চালায়, যা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৫ সি ও ডি এবং ৫০৫ এ ধারায় অপরাধ।’
এফএইচ/এমএএইচ/